Showing posts with label নাগরিক শক্তি. Show all posts
Showing posts with label নাগরিক শক্তি. Show all posts

Thursday, May 15, 2014

তরুণদের অফুরন্ত সম্ভাবনা বিকাশে নাগরিক শক্তি

আমাদের তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে একইসাথে আধুনিকতা এবং আপন শেকড়, ঐতিহ্যকে ধারণ করা - এই দুইয়ের প্রশংসনীয় সংমিশ্রণ লক্ষ্য করার মত।

ওরা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে। চলাফেরা, দৃষ্টিভঙ্গিতে ওরা আধুনিক। আধুনিক জ্ঞান - বিজ্ঞানে ওদের দখল।

একইসাথে ওরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হৃদয়ের গভীরে ধারণ করে। প্রাণের টানে শাহবাগে ছুটে যায়। ক্রিকেটে ম্যাচ জেতার পর ওরা লাল-সবুজ পতাকা হাতে বেড়িয়ে পড়ে।

শুধুমাত্র তরুণ ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমেই সারা দেশে গণিত উৎসবের মত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে। রানা প্লাজা ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্থদের দিকে ওরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। নির্বাচনোত্তর হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ সনাতনী সম্প্রদায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। দলবেঁধে কাজ করাতেই ওদের আনন্দ।


সংখ্যায় ও ওরা এগিয়ে। দেশের ৫০ ভাগ মানুষের বয়স ২৩ বা তারও কম।

প্রাণশক্তিতে ভরপুর বিশাল এই তরুণ প্রজন্মের মাঝে স্বপ্ন, উদ্যম, উৎসাহের কোন ঘাটতি নেই। ওরা পরাজয় খুব একটা দেখেনি – তাই পরাজয় মানতেও চায় না। ওরা পছন্দ করে একসাথে সময় কাটাতে, connected হতে। connected হওয়ার এই ইচ্ছাটাকে জনকল্যাণমূলক নানা কাজে রুপান্তর করা যায় তরুণদের একত্রিত করে। দেশের তরুন তরুণীরা না হয় দল বেঁধে নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে সমস্যা সমাধানে ঝাঁপিয়ে পড়ল – হতে পারে নিজেদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সমস্যা, হতে পারে নিজেদের এলাকার।

শুরুতে যা বলেছিলাম, বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াডের মত দেশ পাল্টে দেওয়া বিশাল কর্মযজ্ঞ ঘটছে শুধুমাত্র কিছু তরুণের স্বেচ্ছা কর্মোদ্যোগে [1]। 

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু তরুণ তরুণী মিলে "কান পেতে রই" নামে একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে যেটি অনেক প্রাপ্তবয়স্ক হতাশাগ্রস্ত মানুষকে সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে এনেছে।
ওদের দেখে প্রফেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল লিখেছেন -

“তোমরা কিছু তরুণ-তরুণী মিলে নিঃসঙ্গ, বিপর্যস্ত, হতাশাগ্রস্তদের মানসিক সেবা দেবার জন্যে একটা হেলপ লাইন খুলেছ। এমনকি আত্মহত্যা করতে উদ্যত কেউ কেউ শেষ মূহূর্তে তোমাদের ফোন করেছিল বলে তোমরা তাদের মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছ। তোমরা এই বয়সেই মানুষের জীবন বাচাঁতে পার– কী আশ্চর্য!’

আমি আমার জীবনে একটা সত্য আবিস্কার করেছি; সেটি হচ্ছে, বড় কিছু করতে হলে সেটি ভলান্টিয়ারদের দিয়ে করাতে হয়, যে ভলান্টিয়াররা সেই কারণটুকু হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করে। কাজেই মানসিক সেবা দেওয়ার এই কাজটুকুও আসলে ভলান্টিয়াররা করে।" [2]


তরুণদের এই অফুরন্ত সম্ভাবনাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়?

তরুণরা আর দশজনের চাইতে নিজেকে আলাদা প্রমাণ করতে চাইবে! বিভিন্ন রকম কল্যাণমুখী প্ল্যাটফর্ম গড়ে দিয়ে ওদের কর্মস্পৃহা জাগিয়ে তোলা যায়।  

তরুণদের হাতের কাছেই Google. ওরা চাইলেই জ্ঞানের দিক দিয়ে যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। নাগরিক শক্তি তরুণদের এই অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবে।

আমাদের তরুণদের কেউ হয়ত উদ্ভাবন করে বসবে এমন কিছু যা দিয়ে অনেক অনেক মানুষের জীবনের একটা দিক পুরোপুরি বদলে যাবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই তরুণ প্রজন্ম নিশ্চয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে!

সবরকম অন্যায় অবিচার দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে ওরা লক্ষ লক্ষ প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হয়ে গর্জে উঠবে। দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে দেশের জন্য কাজ করার মাধ্যমে। 

আমাদের নতুন প্রজন্মের তরুণরা যুক্তরাষ্ট্র - ইউরোপের তরুণ, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার, অর্থনীতিবিদদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের অনেক অনেক উপরে নিয়ে যাবেন।

আর এরাই তো গড়ে তুলবে আমাদের আরাধ্যের স্বপ্নের আধুনিক বাংলাদেশ।


রেফরেন্স

বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াডের সংস্কৃতি

"মধুর সমস্যায় পড়েছেন বৃষ্টি শিকদার ও সৌরভ দাশ।

বৃষ্টি শিকদার ও সৌরভ দাশ হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি), ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ক্যালটেক), স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ডিউক ইউনিভার্সিটিসহ বিশ্বের নামীদামি ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সবাইকে। কিন্তু বেছে নিতে পারবেন মাত্র একটি। কোনটি বেছে নেবেন এই দুই মেধাবী? [12]"

এটা কিভাবে সম্ভব হয়েছে?


সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াড সংস্কৃতি সূচনার মাধ্যমে। 

সেই গল্পই বলছি আজকে।

শুনতে থাকুন! 



বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াডের সংস্কৃতির সূচনার পর বেশকিছু ব্যাপার আমরা লক্ষ্য করছি।

আমরা লক্ষ্য করছি, অনেকগুলো ছেলেমেয়ে প্রতিদিনের একটা বড় অংশ গভীর আগ্রহ নিয়ে গাণিতিক সমস্যা সমাধানে  ব্যয় করে।

স্কুল কলেজে আমরা গণিত বলতে exercise করি - কিছু নির্দিষ্ট ধাপ বা কম্পিউটার বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যালগরিদম মেনে চলি মাত্র। কিন্তু গণিত অলিম্পিয়াডের সমস্যাগুলো সমাধানে ধাপগুলো বা অ্যালগরিদমটা নিজেকে দাঁড় করাতে হয়। অন্যকথায়, গণিত সৃষ্টি করতে হয়।

একটা উদাহরণ দেই।

দুটা সংখ্যাকে গুণ করতে আমরা না বুঝেই কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলি - প্রথমে দুটি সংখ্যার সবচেয়ে ডানের অঙ্ক দুটিকে গুণ করি, তারপর হাতে রাখি ইত্যাদি।

কিন্তু গণিত অলিম্পিয়াডের সমস্যাগুলো সমাধানে এই ধাপ বা নিয়মগুলো - কোন ধাপের পর কোন ধাপ হবে - নিজেকে চিন্তা করে বের করতে হয় - অর্থাৎ গণিত সৃষ্টি করতে হয়।

আমরা বলি, স্কুল কলেজে তোমরা exercise কর, আর আমরা গণিত অলিম্পিয়াডে problem solve করি। কাজেই এখনও যারা Problem Solving কর না, আশা করি, তোমরাও দ্রুত আমাদের দলে যোগ দেবে!

যারা Problem Solving করে তাদের অনেক ভাবতে হয়। ভাবতে গিয়ে তাদের "নিউরনে অনুরনন" হয় এবং তারা অনেক ভালভাবে চিন্তা করতে, বিশ্লেষণ করতে শেখে। গণিত অলিম্পিয়াড সূচনার পর একটা প্রজন্ম গড়ে উঠছে যাদের গড় IQ আগের প্রজন্মগুলোর তুলনায় বেশি। নতুন প্রজন্মের এই ছেলেমেয়েরা অনেক ভালভাবে চিন্তা করতে পারে। আমাদের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দৈনিক এ নিজের ছবি দেখা, বিশ্ব প্রতিযোগিতায় নিজ দেশকে represent করা - অনেক বড় inspiration। 

এই মেধাবী ছেলেমেয়েগুলো যখন দেশ ও সমাজের দায়িত্ব নেবে, তখন আমরা নতুন একটা দেশ গড়ে তুলবো। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতির জন্য আমাদের কিশোর তরুণ গণিতবিদদের একটা ছোট্ট কাজ করতে হবে। গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে চিন্তা করার, বিশ্লেষণ করার যে ক্ষমতা বিকশিত হয়েছে, সেই ক্ষমতাকে আশেপাশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োগ করা শুরু করতে হবে।  

আমরা লক্ষ্য করেছি, গণিত অলিম্পিয়াডের অনুষ্ঠানগুলোতে অনেক ভাল ভাল কথা হয়। আলোকিত মানুষ হওয়ার, দেশকে ভালবাসার অনুপ্রেরণা পায় ছেলেমেয়েরা। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা দেশের গুণী মানুষদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়, প্রশ্ন করতে পারে, কথা বলতে পারে এবং এমনকি চাইলে অটোগ্রাফও নিতে পারে!


দুটা চমৎকার ব্যাপারের


  • একটা হল “গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো” থিম - অনেকগুলো ছেলেমেয়ে নিজের জীবন নিয়ে দেশ নিয়ে বড় বড় স্বপ্ন দেখছে এবং তার চেয়েও বড় কথা স্বপ্নগুলোকে বিশ্বাস করছে [14]। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী দেশের শিশুকিশোর গণিতবিদদের কাছে যে ৩টি স্বপ্নের কথা বলেছিলেন তাদের মাঝে ছিল ২০২২ সালের মধ্যে একজন বাংলাদেশী গনিতবিদের ফিল্ডস মেডল জয় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে একজন বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর নোবেল পুরষ্কার জয়। আমাদের ক্ষুদে গণিতবিদরাও এই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে নিজেদের তৈরি করছে। 
  • আরেকটা হল একেবারে ক্লাস থ্রি - ফোরের ছেলেমেয়েরা ড. জাফর ইকবালের ভাষায় “পেন্সিল কামড়ে” অঙ্ক করতে আসে!


আমরা লক্ষ্য করেছি, বাংলা মাধ্যমের বেশ কিছু ছেলেমেয়ে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেল এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে। মুন পড়ছে Harvard University তে [1], নাজিয়া MIT তে [2] (তা নাহলে "MIghTy" শব্দটা এভাবে লেখা আমরা কোত্থেকে শিখতাম!), ইশফাক Stanford University তে [3], তানভির Caltech এ [4] (আমাদের শ্রদ্ধেয় প্রফেসর ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এই বিশ্ববিদ্যালয়ে Post-Doctoral Researcher হিসেবে কর্মরত ছিলেন) [5], সামিন Cambridge University তে [6]।

আগে অ্যামেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া বা অস্ট্রেলিয়ার গ্রাজুয়েট স্কুলগুলোতে আমরা এমএস বা পিএইচডি করতে যেতাম। ইংরেজি মাধ্যমের অবস্থাসম্পন্ন ছেলেমেয়েরা পড়তে পারত আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলে। কিন্তু “বাংলা মাধ্যম” থেকে "স্কলারশিপ নিয়ে" “আন্ডার গ্রাজুয়েট” লেভেলে “বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে” পড়তে যাওয়াটা নতুন!

“বাংলা মাধ্যম” থেকে "স্কলারশিপ নিয়ে" “আন্ডার গ্রাজুয়েট” লেভেলে “বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে” পড়ার পথ দেখানোর কৃতিত্বের একক দাবিদার বাংলাদেশ গণিত দলের কোচ ড. মাহবুব মজুমদার  [7]; যিনি নিজে MIT থেকে Electrical Engineering এ আন্ডারগ্রাড, Stanford University থেকে Civil Engineering এ মাস্টার্স এবং Cambridge University থেকে Theoretical Physics এ PhD করে Imperial College এ [8] Post Doctoral করছিলেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সাথে সম্পৃক্ত হন এবং স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশে থেকে যান। বিদেশী ও ইঞ্জিনিয়ারিং আন্ডারগ্রাড ডিগ্রি থাকা এবং আরও কিছু হাস্যকর কারণ দেখিয়ে তাকে Dhaka University র Physics Department এ যোগ দিতে দেওয়া হয়নি [9]। তিনি স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশে একটা বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। তার মত ভাল মানুষ সচরাচর দেখা যায় না। আমরা তার পাশে থাকবো।

১৯০৫ এ আইনস্টাইনের "Miracle Year" [10] স্মরণে ২০০৫ সালের বাংলাদেশ জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডে আইনস্টাইন এবং পদার্থবিজ্ঞানের উপর একটা প্রশ্ন উত্তর পর্ব ছিল। সেখানে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম। তাই গণিত ক্যাম্পে ড. মাহবুব মজুমদার আগ্রহের সাথে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতেন। মেক্সিকোতে যাওয়ার আগে প্রেস কনফারেন্সে দেখি তিনি স্ট্রিং থিউরি (String Theory) র [11] একটা পেপার নিয়ে হাজির!   

আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করার মত। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে আমাদের সাফল্যের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে [15] [16]। আমাদের কিশোর - তরুণ গণিতবিদরা ২০০৬ সালে প্রথমবারের মত অনারেবাল মেনশান, ২০০৯ সালে প্রথমবারের মত ব্রোঞ্জ মেডেল, ২০১২ সালে প্রথমবারের মত সিলভার মেডেল জয় করে এনেছে। আমরা আশা করছি, এই ধারা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ গণিত দল ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড থেকে গোল্ড মেডেল নিয়ে ফিরবে! গোল্ড মেডেল জয়ী সেই গণিতবিদ হতে পারো তুমিই!

আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পাশাপাশি আমাদের ক্ষুদে গণিতবিদরা এশিয়ান-প্যাসিফিক ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াডে (এপিএমও) অংশগ্রহণ করছে এবং পদক জয় করে আনছে [16]।

আমি শিরোনামে "সংস্কৃতি" শব্দটির উল্লেখ করেছি। এর সবচেয়ে বড় কারণ অবশ্যই বাংলাদেশের ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের গণিত তথা মেধার চর্চা। কিন্তু এই মেধা চর্চার ঢেউ এসে লেগেছে আমাদের সংস্কৃতির নানা অঙ্গনে, নানা অংশে। গণিত চর্চার জন্য প্রকাশিত হচ্ছে বই [13]। একুশের বই মেলায় গণিতের বইয়ের স্টলে ভিড় জমাচ্ছে ছেলেমেয়েরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে নিয়মিত গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হচ্ছে [17]।

গণিত অলিম্পিয়াড সূচনা এবং সাফল্যের পর বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে অলিম্পিয়াড শুরু হয়েছে।


  • পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড 
  • রসায়ন অলিম্পিয়াড
  • জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড 
  • প্রাণরসায়ন অলিম্পিয়াড
  • ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড 
    • কম্পিউটার প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। আমাদের স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা এখন আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় মেডেল জয় করে আনছে! ভাবা যায়!  


গণিত অলিম্পিয়াডের এই সংস্কৃতি সম্ভব হয়েছে কিছু তরুণ - তরুণীর স্বেচ্ছা কর্মোদ্যোগে। আমরা তাদের "মুভারস" (MOVERS - Math Olympiad Volunteers) বলে জানি। একটা শুভ উদ্যোগে দেশের তরুণ তরুণীদের উৎসাহী অংশগ্রহণ আমাদের প্রাণশক্তিতে ভরপুর তরুণ প্রজন্মকে সংজ্ঞায়িত করে।


নাগরিক শক্তি গণিত অলিম্পিয়াডের এই সংস্কৃতিকে দেশে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেবে।





- ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা; উপাচার্য, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক; সভাপতি, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।

তরুণ প্রজন্ম এখন নেতৃত্ব নিতে সক্ষম
- ডঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বিভাগীয় প্রধান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ভর্তি, মান ও দক্ষ জনশক্তি
- ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।



তোমাদের জন্য লেখা






আরও কিছু লেখা





বাংলাদেশে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড





রেফরেন্স
  1. Harvard University
  2. MIT
  3. Stanford University
  4. California Institute Of Technology
  5. Dr. Muhammed Zafar Iqbal
  6. Cambridge University
  7. Dr. Mahbub Majumdar
  8. Imperial College
  9. A painful funny story
  10. Einstein's Miracle Year
  11. String Theory
  12. এমআইটির পথে...
  13. গণিতের জাদু বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
  14. গণিত শেখো স্বপ্ন দেখো: জাতীয় গণিত উৎসব বিশেষ সংখ্যা: ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা
  15. আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড: এবার তিনটি ব্রোঞ্জ পেল বাংলাদেশ
  16. এপিএমওতে বাংলাদেশের দুটি ব্রোঞ্জ পদক
  17. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড

আজকের উপলব্ধিতে বাংলাদেশ (১৫.৫.২০১৪)


Wednesday, May 14, 2014

নাগরিক শক্তির নির্বাচনী ইশতেহারের রূপরেখা

নাগরিক শক্তির নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব বিষয় থাকবেঃ

  • শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটা মানুষ তার সুপ্ত ক্ষমতাকে জাগিয়ে তুলে এক একটা বিশাল শক্তি হয়ে উঠতে পারে শিক্ষার মাধ্যমে। জ্ঞান আর মেধা দিয়ে জীবনে সবকিছু অর্জন করা যায়। যে কেউ প্রায় যে কোন বয়সে সঠিকভাবে চেষ্টা করলে যে কোন কিছু হয়ে উঠতে পারে – এই বিশ্বাসটা সবার মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। মানুষগুলোকে জাগিয়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগবে না। (শিক্ষা শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না, আমরা চাইলে জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে চারপাশ থেকে শিখতে পারি।) ইতিহাসের যে কোন সময়ের তুলনায় নিজেকে উপরে তোলার সুযোগও সবচেয়ে বেশি আমাদের প্রজন্মের। আধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন আমাদের হাতে দিয়েছে অনন্য সব আবিষ্কার - মানুষ এখন যে কোন প্রান্তে বসে যে কোন কিছু শিখতে পারে, যে কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারে, কোটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে, কাজ করতে পারে, পারে আয় রোজগার করতে।

  • দেশের ৫০ ভাগ মানুষের বয়স ২৩ বা তার কম। এই বিশাল তরুণ প্রজন্মকে, যারা কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের তৈরি করছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে গড়ে তোলা হবে (এবং সাথে বাবসা বান্ধব, বিনিয়োগ বান্ধব, উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা লক্ষ লক্ষ তরুনের জন্য) যাতে তারা নিজেদেরকে এবং দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। (একটা সামগ্রিক পরিকল্পনা - কত হাজার তরুনের শিক্ষা, দক্ষতা কোথায়, তাদের কর্মসংস্থান / উদ্যোগ কিরকম হতে পারে।)
  • বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে (মাথাপিছু আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, দুর্নীতি হ্রাস ইত্যাদি) উন্নতিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নেওয়া হবে। কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার উল্লেখ থাকবে ইশতেহারে। বিভিন্ন সূচকে উন্নতিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নিয়ে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হবে – 
    • জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে যত দ্রুত সম্ভব ৮% এ উন্নীত করা হবে এবং লক্ষ্য অর্জিত হলে ১০% কে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নেওয়া হবে।
    • মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য থাকবে।
    • দুর্নীতি দমন সূচকে ব্যাপক উন্নতি আনা হবে।
    • অপরাধ শক্তভাবে দমন করে বিভিন্ন অপরাধ দমন সূচকে উন্নতি ঘটানো হবে।
    • বিভিন্ন সামাজিক সূচকে (যেমন শিক্ষা, শিশু মৃত্যু হার, আয়ুষ্কাল ইত্যাদি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে।
    • নিজেদের মানদণ্ডে নিজেদের সাফল্য, অপরের বার্থতার প্রচার নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডই সাফল্য - বার্থতার মূল্যায়ন করবে।
  • ব্যবসা বান্ধব, বিনিয়োগ বান্ধব, উদ্যোক্তা বান্ধব, শিল্প বান্ধব নীতিমালা প্রনয়ন এবং বাস্তবায়ন।
    • অর্থনীতিবিদদের নেতৃত্বে “ন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড প্ল্যানিং কাউন্সিল” গঠন। অর্থনীতিবিদদের নেতৃত্বে এই কাউন্সিলে যোগ দেবেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, শিল্প বাবসায়ি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি বাবসায়ি, প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, পরিসংখ্যানবিদ, কৃষক এবং শ্রমিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
    • উন্নত অবকাঠামো তৈরি + জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ + রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা > অধিকতর বিনিয়োগ > জিডিপি প্রবৃদ্ধি।
    • দেশের জনগণকে ভয় দেখিয়ে, “জ্বালাও - পোড়াও” চালিয়ে, জানমালের ক্ষতি করে অর্থনীতির জন্য চরমভাবে ক্ষতিকর হরতাল পালনে কেউ যাতে বাধ্য করতে না পারে - সে লক্ষ্যে কঠোর বাবস্থা।
    • উদ্যোক্তাদের নতুন বাবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য বাবস্থা গ্রহণ - সমস্যাগুলো সমাধান করা। উদ্যোক্তাদের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ইঙ্কিউবেটার ফার্ম প্রতিষ্ঠায় সহায়তা
    • আইসিটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই খাতের বিকাশে সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন। দক্ষ আইসিটি পেশাজীবী, উদ্যোক্তা গড়ে তোলা, সারা দেশে দ্রুতগতির ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেওয়া, আইসিটি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে দূরদর্শী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া।
    • বিভিন্ন সম্ভাবনাময় শিল্প (শিপ বিল্ডিং, পর্যটন শিল্প প্রভৃতি) কে চিহ্নিতকরণ, অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধান এবং বাস্তবায়ন।
    • বাংলাদেশকে বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির অফশোরিং এর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন - অবকাঠামো, জ্বালানি, দক্ষ কর্মী, কূটনৈতিক উদ্যোগ, বিশ্বব্যাপী মার্কেটিং।
    • ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পের বাবসায়িদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া
    • শেয়ারবাজার নিয়ে কেউ যাতে কারসাজি করতে না পারে সেই লক্ষ্যে বাবস্থা গ্রহণ। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারিদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। কোম্পানির মূল্যমান নির্ধারণে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা।
    • ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর বাবস্থা। ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনা। দেশের ফাইনান্সিয়াল সিস্টেমকে ঢেলে সাজানো।
    • বিভিন্ন সমস্যা (যেমন ঢাকার যানজট সমস্যা) নিরসনে সৃজনশীল কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া।
    • শিল্পের বিকাশে (যেমন - শুল্ক মুক্ত প্রবেশাধিকার ইত্যাদি) কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া।
    • দেশের প্রকৌশলীরা বিভিন্ন শিল্পে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করবেন। তাদের উন্নত প্রশিক্ষনের বাবস্থা করা।

  • দীর্ঘ মেয়াদি এবং স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়ে বাজেট এ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া এবং বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ - বিভিন্ন মন্ত্রনালয়, স্থানীয় সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কর আদায়ে স্বচ্ছতা আনা। শুল্ক নির্ধারণে বেক্তি স্বার্থ নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। যেমন সিগারেট আমদানির উপর শুল্ক বাড়ানো, কম্পিউটার এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের আমদানির উপর শুল্ক কমানো ইত্যাদি। কাস্টমসের দুর্নীতি বন্ধ করা। 

  • বিভিন্ন মন্ত্রনালয় এবং স্থানিয় সরকারে বরাদ্দকৃত অর্থ পরিকল্পনা মাফিক ব্যয় নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া, প্রশিক্ষণ দেওয়া। অনিয়ম তদারক করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচিবালয়ের আধুনিকায়ন, কার্যকারিতা বাড়ানো।   
  • শিক্ষাবিদদের পরামর্শের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী - অভিভাবকদের মতামত নিয়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাবাবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে আমূল সংস্কার আনা হবে। 
    • শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেরা শিখবে। 
    • পরীক্ষা পদ্ধতি, মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সংস্কার আনা হবে। সৃজনশীল এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ নির্ভর শিক্ষাবাবস্থা গড়ে তোলা হবে। 
    • শিক্ষার্থীরা মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে মেধাবী জাতি গড়ে তোলা হবে।
    • বাংলাদেশে বিশ্বমানের কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় - ইন্ডাস্ট্রি এর মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি প্রদানে স্বচ্ছতা আনা হবে - ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা হবে। 
    • উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম যাতে অপরাজনীতির কারণে বাঁধাগ্রস্থ না হয় সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ রাজনীতির চর্চা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখতে চাই - ছাত্রছাত্রীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে, মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দল বেঁধে কাজ করবে। 
    • মাদ্রাসা শিক্ষাবাবস্থার সংস্কার (সবার মতামতের ভিত্তিতে) - আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্তিকরন - যাতে তারা মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, বাবসা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি সুযোগ পায়।
  • দলীয় পরিচয়ের উরধে উঠে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের সাজা দেওয়া হবে এবং জাতিকে গ্লানিমুক্ত করা হবে। এরপর সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হবে।

  • সবরকম অপরাধ শক্ত হাতে দমন করা হবে। অপরাধ হারে ব্যাপক হ্রাস আনা হবে। অপরাধী যত বড় হোক, আর অপরাধ যত ছোট হোক না কেন - অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। 
    • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারি প্রভাবমুক্ত করা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আধুনিক বিজ্ঞান (ফরেনসিক, ডিএনএ টেস্ট ইত্যাদি) সমৃদ্ধ করা, বেতন ভাতাবৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘুষ - দুর্নীতি বন্ধ, উন্নত প্রশিক্ষন, পুরস্কার প্রবর্তন। 
    • তদন্ত নিরেপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত থেকে শেষ করা। 
    • শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন এবং দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ।
    • বিচারে দীর্ঘ সূত্রিতা দূর করা হবে। 
    • মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর বাবস্থা। দেশে মাদকের প্রবেশ প্রবেশপথেই থামিয়ে দেওয়া হবে
    • সাইবার ক্রাইম রোধে কঠোর বাবস্থা নেওয়া হবে। দেশে এখন অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে ফেলা, ওয়েবসাইট সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট hack করা, মানুষের বাসাবাড়ি-বাথরুমে লুকিয়ে গোপন ক্যাম বসানো, কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গুজব রটিয়ে সহিংসতা ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত করার কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ব্যবহার থেকে শুরু করে অনেক রকম সাইবার ক্রাইম ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সিকিউরিটি, ডিজিটাল ফরেন্সিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞদের কন্সালটান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। 
    • জনগণ অপরাধ এবং অপরাধীকে সামাজিকভাবে বয়কট / প্রতিহত করবে, ঘৃণার চোখে দেখবে।

  • জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা 
    • ২০০১ নির্বাচন উত্তর সংখ্যালঘু নির্যাতন, রামু, পটিয়া, অন্যান্য হামলা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনকালীন হামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশে চিরদিনের জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
    • কোন নির্দিষ্ট জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষের উপর গুজব রটিয়ে বা অন্য কোন উপায়ে কোন রকম অন্যায় করা হলে, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত এলে, তদন্ত করে দায়ি বাক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। 
    • দেশের জনগণ একতাবদ্ধ থেকে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
  • দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, নির্বাচন কমিশন, আইন বিভাগকে (বিচারপতি এবং আইনজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে) সরকারি প্রভাবমুক্ত করে স্বাধীন, শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হবে।
  • দেশের রাজনীতিতে গুনগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবার মতামত, পরামর্শ নিয়ে শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রেখে, কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় সরকারের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের বিধান রেখে সংবিধানে সংশোধন আনা হবে।
  • আমাদের গৌরব বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং বাংলাদেশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ মিশনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া একমাত্র নাগরিক শক্তির পক্ষেই সম্ভব।
    • বাংলাদেশ সেনা, বিমান ও নৌ বাহিনীর সদস্যরা দেশের এবং বিদেশের বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজমেন্ট এবং এক্সিকিউটিভ পদে কর্মরত আছেন। বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও ম্যানেজমেন্ট এবং এক্সিকিউটিভ পদগুলোর জন্য বাংলাদেশ সেনা, বিমান ও নৌ বাহিনীর সদস্যদের অগ্রাধিকার দেয় - সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য। বাংলাদেশ সেনা, বিমান ও নৌ বাহিনীর সদস্যদের জন্য একবিংশ শতাব্দীর ম্যানেজমেন্ট (Management) প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। 
  • শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ
  • প্রবাসে কর্মসংস্থান 
    • শ্রমিক রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। 
    • আন্তর্জাতিক চাহিদা বিবেচনায় নি্রয়ে দক্ষ শ্রমিক, দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা হবে।
    • প্রবাসে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো থেকে প্রবাসীদের সমস্যা আন্তরিকতার সাথে সমাধান করা হবে। 
  • উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জনগণকে সম্পৃক্ত করা। জনগণের জন্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেওয়া যাতে তারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে।
  • গ্রামের উন্নয়ন 
    • শিক্ষায় সাফল্য, স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান, তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ, কৃষিতে উদ্ভাবন ইত্যাদি ক্ষেত্রে গ্রামে গ্রামে প্রতিযোগিতা শুরু করা যায়। বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সেরা গ্রাম, সেরা উদ্যোক্তা ইত্যাদি নির্বাচন করা যায়। (প্রত্যেক গ্রামের মানুষ নিজের গ্রাম, নিজের ইউনিয়ন, নিজের থানা নিয়ে গর্ব করে।) এতে গ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। 
    • বিভিন্ন সামাজিক সূচকে উন্নতির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেওয়া।
  • কৃষি ও কৃষক সমাজের উন্নয়ন
  • স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন
    • স্বাস্থ্য যত ভাল, রোগ-বালাই যত কম, জনগণের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতাও তত বেশি।
    • গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যকর্মী। 
    • স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির ব্যবহার
  • নারী অধিকার সংরক্ষণ এবং নারীদের ক্ষমতায়ন 
    • নারী নির্যাতন, যৌতুক, বাল্য বিবাহ এর মত সামাজিক সমস্যাগুলোকে শক্তভাবে দমন করা
    • নারী অধিকার সংরক্ষণে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি। 
    • গ্রামের নারীরা যাতে আইনি সহায়তা পায় - সেই লক্ষ্যে বাবস্থা।
  • দারিদ্র বিমোচন 
    • সরকারি পরিকল্পনা 
    • এনজিওগুলো যাতে দেশের দারিদ্র বিমোচনে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কাজ করতে পারে - সেই পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাবস্থা নেওয়া। এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনা।
    • দারিদ্র্য দূরীকরণে এবং মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সামাজিক এন্টারপ্রাইস প্রতিষ্ঠা। 
  • জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা হবে। শিল্পের বিকাশ এবং উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, নতুন উৎস থেকে তুলনামূলকভাবে স্বল্প ব্যয়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।  
  • ন্যায়ভিত্তিক সমাজবাবস্থা প্রতিষ্ঠা - সৎ এবং ন্যায়ের পথে থেকে চেষ্টা করলে জীবনে যে কোন কিছু অর্জন করা যায় এবং অন্যায় করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে - এই বোধ জাগ্রত করা হবে।




Follow-ups / Influence at Work


Related Links

 


High Speed Rail (Someday will have "Made in Bangladesh" 
marked on it")

High Speed Rail
Satellite (Someday will have "Made in Bangladesh" 
marked on it)
Satellite



 
  
Aircraft (Soon to be : "Made in Bangladesh")
Aircraft Manufacturing




Saturday, May 10, 2014

"মাদকমুক্ত বাংলাদেশ" গড়ার পথে অগ্রযাত্রা - ৪

দেশবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করবো।

"মাদকমুক্ত বাংলাদেশ" হোক আমাদের শ্লোগান। 





'মাদকমুক্ত নবীনগর চাই’ স্লোগান সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দীর্ঘ ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন





"'মাদকমুক্ত নবীনগর চাই’ স্লোগান সামনে রেখে গতকাল শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দীর্ঘ ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন হয়েছে৷ 


কর্মসূচির সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তিন-চার মাস ধরে নবীনগরে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুনসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তার পেছনে মাদক একটি বড় ভূমিকা রাখছে। সে জন্য নবীনগরকে মাদকমুক্ত রাখতে ও মাদককে সমস্বরে “না” বলতে প্রশাসনসহ সব মহলের সহযোগিতায় মাদকবিরোধী আমাদের এ ব্যতিক্রমী আয়োজন।’

স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মনন’ ও ‘নবীনগর যুব ফোরাম’ যৌথভাবে এর আয়োজন করে। 

নবীনগর-কুমিল্লা সড়কের মালাই বাঙ্গরা বাজার থেকে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের নবীপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়কে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মাদকবিরোধী মানববন্ধনে ওই সড়ক সংলগ্ন অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ-মাদ্রাসার কয়েক হাজার শিক্ষার্থীসহ পথচারী ও নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এ সময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সরকার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছেনা বেগমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিরা প্রায় দুই ঘণ্টা একটি খোলা ট্রাকে চড়ে দীর্ঘ ১৯ কিলোমিটার সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় ওই সড়কের দুই পাশে শিক্ষার্থীরা ‘মাদককে না বলুন’ ও ‘মাদকমুক্ত নবীনগর চাই’ স্লোগান দেয়।
বাঙ্গরা বাজারে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী চামেলি বলে, ‘মাদককে “না” বলতে এবং নবীনগরকে মাদকমুক্ত রাখতে স্কুলের স্যারদের কথায় এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও মানববন্ধনে অংশ নিতে এসেছি। আমরা মাদকমুক্ত সমাজ দেখতে চাই।’" [2]


"মাদকমুক্ত বাংলাদেশ" গড়ার পথে গত কয়েকদিনে অগ্রগতি



জনগণের প্রতি আহ্বান

স্থানীয়ভাবে জনগণ বিভিন্ন ইস্যু (যেমন মাদকবিরোধী, যৌতুক বিরোধী, দুর্নীতি বিরোধী) তে "নাগরিক আন্দোলন" গড়ে তুলবেন। "নাগরিক কর্মসূচী" দেবেন। এলাকায় এলাকায় "নাগরিক কমিটি" গড়ে তুলবেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের "নাগরিক আন্দোলনে" সম্পৃক্ত করবেন।

জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রচেষ্টায় গড়ে উঠবে স্বপ্নের বাংলাদেশ।




রেফরেন্স
  1. গুম অপহরণ খুন বন্ধে জনগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি
  2. ‘মাদকমুক্ত নবীনগর চাই’
  3. "মাদকমুক্ত বাংলাদেশ" গড়ার পথে অগ্রযাত্রা
  4. "মাদকমুক্ত বাংলাদেশ" গড়ার পথে অগ্রযাত্রা - ২
  5. "মাদকমুক্ত বাংলাদেশ" গড়ার পথে অগ্রযাত্রা - ৩: "মাদকমুক্ত বাংলাদেশ" গড়তে ইয়াবা গডফাদারদের বিরুদ্ধে দৃঢ়তর অবস্থান
  6. "যৌতুক প্রথামুক্ত বাংলাদেশ" গড়ার পথে অগ্রযাত্রা
  7. জনতার ঐক্যের শক্তির মাধ্যমে অন্যায় এবং অন্যায়কারীকে রুখে দাঁড়ানো - ৩
  8. জনতার ঐক্যের শক্তির মাধ্যমে অন্যায় এবং অন্যায়কারীকে রুখে দাঁড়ানো - ২
  9. মন্ত্রী সাংসদদের নিজ সংকীর্ণ স্বার্থে সাংবাদিক, প্রকৌশলী এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের গায়ে হাত তোলার অভ্যাস রুখে দেওয়া
  10. মাদক রুখতে ১৯ কিলোমিটার জুড়ে মানববন্ধন

Friday, May 9, 2014

খুনি কাউন্সিলর নূর হোসেনের অপরাধ সাম্রাজ্য বন্ধে অগ্রগতি

খুনি কাউন্সিলর নূর হোসেনের অপরাধ সাম্রাজ্য বন্ধ হচ্ছে। নূর হোসেন দ্রুত গ্রেপ্তার হোক। নারায়ণগঞ্জে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক। 


অগ্রগতি 




"নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের(নাসিক) প্যানেল মেয়র ও ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ ৫ জন অপহরণের মামলার প্রধান আসামি আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। এসময় রক্তমাখা একটি মাইক্রোবাসসহ আইনজীবী চন্দন সরকারের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে দুইজনকে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম উদ্ধারের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

ওই সময় তিনি বলেন, একটি শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে যার মধ্যে অনেক দাগ রয়েছে। সেটা আসলে রক্তের দাগ কি না পরীক্ষা করে দেখা হবে। এছাড়াও নূর হোসেনের পাসপোর্ট খতিয়ে দেখা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় টেকপাড়া এলাকায় অবস্থিত নূর হোসেনের বাড়ির চারপাশ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ঘেরাও করে রাখে পুলিশ। পরে বেলা ১১টায় নূর হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা। অভিযান চলাকালে গণমাধ্যমের কোন কর্মীকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ) শহিদুল ইসলাম অভিযানের সত্যতা স্বীকার করেছেন।"

সূত্র - নূর হোসেনের বাড়িতে রক্তমাখা মাইক্রোবাস, মোবাইল ফোন, আটক ২







"কাঁচপুরে শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা, উচ্ছেদে বাধা, পরিবহনে চাঁদাবাজিসহ নানা কারণে বারবার আলোচনায় এসেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নূর হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, কাঁচপুর ও সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদাবাজি, নদী দখল, মাদক ব্যবসাসহ অনেক কিছুরই নিয়ন্ত্রক তিনি ও তাঁর লোকজন। তাঁর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানায় ছয়টি হত্যা মামলাসহ ২২টি মামলা রয়েছে।

গত রোববার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক থেকে অপহূত কাউন্সিলর নজরুলসহ ছয়জনের লাশ গতকাল বুধবার উদ্ধার করা হয়েছে বন্দর থানার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে। একই সড়ক থেকে প্রায় একই সময়ে অপহূত হন নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়ির চালক ইব্রাহিম। গতকাল উদ্ধার হওয়া লাশের একটি ইব্রাহিমের।


আওয়ামী লীগ-সমর্থক নজরুলের পরিবারের অভিযোগ, বিরোধের জের ধরে নূর হোসেন ও তাঁর লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। রোববার ও সোমবার নূর হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে মঙ্গলবার থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

এলাকার লোকজন জানান, ট্রাকের সহকারী হিসেবে জীবন শুরু করা নূর হোসেন পরে চালক হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি শামীম ওসমানের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর সিদ্ধিরগঞ্জে তিনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে থাকেন। ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ ১৩টি মামলা হয়। বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়ন কাঁচপুর শাখার সভাপতিও হন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি এলাকায় ছিলেন না। ওই সময় তিনি ছিলেন পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাঁকে ধরিয়ে দিতে ইন্টারপোলে রেড নোটিশও পাঠানো হয়েছিল। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনের পর তিনি এলাকায় ফেরেন। গত বছর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম পথ শিমরাইল মোড় ও কাঁচপুরে পরিবহনে চাঁদাবাজিসহ সবকিছু এখন নিয়ন্ত্রণ করেন নূর হোসেন ও তাঁর লোকজন।

পরিবহনে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ২০১২ সালের আগস্টে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দেন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েতুল্লাহ। র‌্যাবের মহাপরিচালক বরাবর দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, অনেক দিন ধরে কাঁচপুর সেতু ও চিটাগাং রোডে স্থানীয় হোসেন চেয়ারম্যানের (নূর হোসেন) নেতৃত্বে কিছু মাস্তান পরিবহনগুলো থেকে প্রতিদিন দু-তিন লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে পরিবহনকর্মীদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে।

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক ও মালিকেরা নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশ করেন ও বিভিন্ন জায়গায় স্মারকলিপি দেন। পরে প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর হস্তক্ষেপে ওই চাঁদাবাজি বন্ধ হয়।


নদী দখল ও বিআইডব্লিউটিএর মামলা: বিআইডব্লিউটিএর সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কাঁচপুর সেতুর নিচে শীতলক্ষ্যার তীর দখল করে নূর হোসেনদের গড়ে তোলা বালু ও পাথরের ব্যবসা উচ্ছেদ করা হলেও নবম সংসদ নির্বাচনের পর আবারও নদী দখল করে এ ব্যবসা করছেন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কাঁচপুর সেতুর নিচে শীতলক্ষ্যার তীর অবৈধভাবে দখল করে বালু-পাথরের ব্যবসা গড়ে তোলার অভিযোগে নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ২০১০ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেছিলেন বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা। মামলায় সরকারি কাজে বাধাদান, সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া এবং নদীতীরের প্রায় ৮০০ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ আনা হয়। গত কয়েক বছরে ওই দখল উচ্ছেদে আট-দশবার অভিযান চালানো হয়। মামলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২২টি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

মেলার নামে অশ্লীল নৃত্য-জুয়া: অভিযোগ রয়েছে, সিদ্ধিরগঞ্জে সিটি করপোরেশনের ট্রাক টার্মিনালে এক বছরের বেশি সময় ধরে মেলার নামে চলছে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর। মেলায় অবাধে মাদকও বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিলর নূর হোসেনকে এ মেলা বন্ধ করতে গত ১৬ এপ্রিল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল মজুমদার চিঠি দিলেও মেলা বন্ধ হয়নি।

অপহরণের পরে রবি ও সোমবার নূর হোসেনের ফোন খোলা থাকলেও মামলার পরে মঙ্গলবার থেকে ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাই এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।"




"নূর হোসেনের কাঁচপুর শিমরাইল বাসভবনের সামনে ও পেছনে ২টি পুকুরে রাখা হতো ফেনসিডিল আর অস্ত্র। সীমান্ত থেকে সরাসরি কাভার্ড ভ্যান কিংবা ট্রাকযোগে ফেনসিডিল ও অস্ত্র নিয়মিত প্রতি রাতে উক্ত পুকুর পাড়ে এনে নামানো হতো। গভীর রাতে বস্তায় বস্তায় এসব ফেনসিডিল ও অস্ত্র পুকুরে রাখার দৃশ্য দেখতো এলাকাবাসী।

নূর হোসেনের সিমরাইল বাসভবনে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার মূল মনিটর। এখানে বসে মাদক ও অস্ত্রসহ আন্ডার গ্র্যাউন্ডের সকল কার্যক্রম মনিটর করতো নূর হোসেন। ইতিমধ্যে পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি মাইক্রোবাস জব্দ ও ১১ জনকে আটক করে। ঐ দিনই ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থা রহস্যজনকভাবে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। ফলে সহজেই নূর হোসেনের ক্যাডার বাহিনী ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধারণকৃত মূল সফটওয়্যার সরিয়ে ফেলেছে।" [2]

রেফরেন্স

  1. ভেঙে ফেলা হচ্ছে আজমেরী ওসমানের সেই টর্চার সেল
  2. নূর হোসেনের দুই পুকুরে রাখা হতো অস্ত্র, মাদক