Showing posts with label গণজাগরণ মঞ্চ. Show all posts
Showing posts with label গণজাগরণ মঞ্চ. Show all posts

Tuesday, April 15, 2014

গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে বক্তব্য

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র নিয়ে বক্তব্য

বাংলাদেশের জনগণের চোখে ডাঃ ইমরান এইচ সরকারই গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র।

  • শাহবাগের আন্দোলন, সৃজনশীল বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষণা  
  • রানা প্লাজা ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়ানো 
  • সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্বাচনকালীন হামলার প্রতিবাদ জানানো, পাশে দাঁড়ানো 
- গণজাগরণ মঞ্চের সব কর্মকাণ্ডে আমরা ডাঃ ইমরান এইচ সরকারের অগ্রগণ্য ভূমিকা দেখেছি।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন সন্ত্রাসী গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে কি ঘোষণা দিয়েছে - বাংলাদেশের জনগণের তা নিয়ে মাথা বাথা নেই।



গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের উপর ছাত্রলীগ যুবলীগের সন্ত্রাসীদের হামলার নিন্দা 

আমরা গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের উপর ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের সন্ত্রাসীদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি, জড়িত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

"শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রজন্ম চত্বরে মিডিয়া সেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় মামলা করতে গেলে থানার ভেতরে আবারও দুই পক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটে।


ইমরান এইচ সরকার বলেন, যুবলীগ নেতা নাসিম রূপক ও ছাত্রলীগ নেতা শেখ আসমানের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।"

- গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর হামলা, আহত ৬

‘কর্মীদের ওপর হামলা হলে অন্য কর্মীরা শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যায়। কিন্তু ওসির রুমের সামনে অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের সামনেই লাঠি ও রড দিয়ে মঞ্চের কর্মীদের ওপর আবার হামলা চালায় আবির ও শিশির।এতে মঞ্চের কর্মী অরণ্য শাকিলের মাথা ফেঁটে যায় এবং নবেন্দু শাহা জয়ের হাত ভেঙে যায়।’

- গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের ওপর হামলা, আহত ১০


ছাত্রলীগ, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা খুন, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত। ছাত্রলীগ, যুবলীগের এসব সন্ত্রাসী এবং তাদের মদদদাতাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। বদি, ওসমানদের জন্য যে ভয়ানক পরিণতি অপেক্ষা করছে - এদেরও আইন এবং বিচারের মুখোমুখি হয়ে একই পরিণতি বরণ করতে হবে।



গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ 



"পাঠক কাজী রহমান: যেভাবেই হোক, একটা জাগরণ তো এসেছে। একে সবাই মিলে ধরে রাখতে পারলে খুব ভালো হয়। যাদের জমছে না, তারা সরে যাক। স্বল্পসংখ্যক হলেও শুধু নিবেদিতপ্রাণরাই থাকুক এর সঙ্গে। যুবক-তরুণদের আশার আলো হয়ে। যাদের দৃষ্টি থাকবে অন্ধকার অতীতের দিকে নয়, বরং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে। আজ না হোক কাল যারা দেশকে দেবে গর্ব করার মতো দিন। আমি যদি তাদের সঙ্গে না-ও থাকি, আমার আত্মা, আমার চেতনা যেন থাকে তাদের সঙ্গে। মানুষের হাসি দেখে আমি যেন বলতে পারি—এই তো আমার দেশ। আমি তো এদেরই একজন (ছিলাম)!


শফিক রহমানের মন্তব্য: আওয়ামী লীগের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই গণজাগরণ মঞ্চকে কাজে লাগানো এবং যাতে কোনো ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলন না হতে পারে, তা নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের এ রকমের নাটকের মঞ্চ আর যে কত দেখতে হবে, সেটাই এখন ভাবার বিষয়!

সায়েম সজল: কোনো সন্দেহ নেই গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হয়েছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবেই। সরকার তার প্রয়োজনমতো মঞ্চকে ব্যবহার করেছে মাত্র।

পরাগ রহমান: আওয়ামী লীগ বড় বড় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন থেকে শুরু করে অনেক নিচু লেভেল পর্যন্ত যখন, যাদের দরকার মনে করেছে, ব্যবহার করেছে আর ব্যবহার শেষে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।

শিকদার দস্তগীর: শুরুতেই জানতাম, এর প্রয়োজনীয়তা সরকারের কাছে একসময় ফুরিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগ কী জিনিস নতুন প্রজন্মের যারা জানত না, তারা এদের চিনে নিক।

কাজী এস আহমদ: যেভাবেই মঞ্চের শুরুটা হোক না কেন জনসমর্থন পাওয়ামাত্র সরকার এটাকে ছাত্রসংগঠন এবং তাঁবেদার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে গ্রাস করে এদের ব্যবহার করে এবং কাজ হয়ে গেলে ছুড়ে ফেলে দেওয়াটা আওয়ামী লীগের চরিত্র।"

"গত বছর এই সময় সারা বাংলাদেশ কাঁপছে আবেগ, আনন্দ ও বিস্ময়ে। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ ঘুমকাতুরে বাঙালিকে ঘাড় ঝাঁকিয়ে, চুলের মুঠো উঁচিয়ে রাস্তার মাঝখানে টেনে নামিয়েছিল। লাখ লাখ মানুষ, তাদের মধ্যে যেমন রয়েছে সদ্য স্কুলে যাওয়া কিশোর, তেমনই অশীতিপর বৃদ্ধ, ভিড় জমিয়েছিল শাহবাগ চত্বরে। দেশের প্রতিটি পত্রিকার শিরোনামে শাহবাগ, টিভি চ্যানেলগুলোর চৌপ্রহরের তাজা ধারাভাষ্যে শাহবাগ। বিদেশের তথ্যমাধ্যমেও সেই ঘটনা সমান গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার পায়। নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রথম পাতায় সচিত্র প্রতিবেদনে একদিকে বিস্ময়, অন্যদিকে উদ্বেগ। কেউ কেউ শাহবাগের টগবগে তরুণদের সঙ্গে আমেরিকার ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলনকারীদের মিলও খুঁজে পায়। তাহরির স্কয়ারের তরুণ মিসরীয়দের আন্দোলনের সঙ্গে তাদের তুলনাও স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে।

শাহবাগ আন্দোলনের বাহ্যিক লক্ষ্য ছিল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সুবিচার নিশ্চিত করা। সেই বিচার-প্রক্রিয়া এগিয়েছে, কিন্তু এখনো সমাপ্ত হয়নি। এখনই যদি এই আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া হয়, তাতে শুধু তাদেরই লাভ হয়, যারা সে বিচার-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক, তা চান না বা তা বিলম্বিত হলে অধিক রাজনৈতিক মুনাফা আছে বলে বিশ্বাস করেন। শাহবাগ আন্দোলনের যুদ্ধাপরাধী-বিরোধী এই বাহ্যিক প্রকাশ ছাড়াও একটি অন্তর্গত চেহারা আছে, তা হলো একাত্তরের চেতনার নবায়ন। শাহবাগ আমাদের বুঝিয়েছিল, শুধু একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারকার্য সম্পন্ন করে আমাদের স্বপ্নের সেই বাংলাদেশের নির্মাণ সম্পূর্ণ হবে না। একাত্তর মানে শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয়; একাত্তর মানে এক নতুন বাংলাদেশ, এক গণতান্ত্রিক, বহুপক্ষীয়, গণকল্যাণমুখী, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। শাহবাগের তরুণেরা বুঝেছিল, ক্ষমতার বৈঠা যাঁদের হাতে, অথবা যাঁরা ঘাপটি মেরে বসে আছেন কখন ক্ষমতার কুরসিতে বসবেন, তাঁদের দ্বারা সে লক্ষ্য অর্জিত হবে না, কারণ তাঁদের অনেকেই সে চেতনায় আদৌ বিশ্বাসী নন।"

- শাহবাগ, তাহরির, অকুপাই...





গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে আরও 


    "শাহবাগের গণজাগরণের মাধ্যমে প্রচলিত রাজনীতির বাইরে তারুণ্যদীপ্ত একটা নতুন রাজনীতির প্রত্যাশাও প্রতিফলিত হয়েছিল। আমাদের বহু চেনা ডান এবং বামদলগুলোর বাইরে শাহবাগ চেতনায় উদ্বুদ্ধ একটা নতুন তরুণ রাজনৈতিক শক্তির সম্ভাবনা সেখানে সুপ্ত ছিল।

    তাদের আরও বৃহৎ প্রেক্ষাপটে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনেতিক পরিকল্পনা নিয়ে গণমানুষের আরও কাছাকাছি যেতে হবে, তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। যে জন্য প্রয়োজন সীমাহীন সততা, আত্মত্যাগ। পেশিশক্তি, অর্থশক্তি নয়, সাইলেন্ট মেজরিটির আস্থাই কেবল হতে পারে তাদের শক্তির উৎস। সে ক্ষেত্রে অবশ্য তাদের গণজাগরণ মঞ্চ বা শাহবাগ চত্বরের কাঠামোর বাইরে আসতে হবে।

    ভবিষ্যত বাংলাদেশের একটা ছবি হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো শাহবাগ চত্বরে ফুটে উঠেছিল। ছবিটি আবছা, যেমন থাকে ফিল্মের নেগেটিভে। নানা প্রক্রিয়ায় সেই অস্পষ্ট ছবিকে স্পষ্ট করে তুলতে হয়।

    এখন যাদের সকালের আকাশের মতো বয়স– নানা মেরুকরণের মাধ্যমে ত্যাগী, নিষ্কলুষ একদল তারুণ-তরুণীই শাহবাগে জেগে ওঠা আগামী বাংলাদশের ছবিটা ষ্পষ্ট করবেন বলে বিশ্বাস করি।" 


    ছাত্রলীগ 

    Friday, February 7, 2014

    গণজাগরণ মঞ্চের প্রথম বর্ষপূর্তি

    গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন আমাদের দেখিয়েছে, আমরা একাত্তরের মতোই বারবার জাগতে পারি। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন আমাদের দেখিয়েছে, দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে অহিংসভাবে যে কোন ন্যায্য দাবি আমরা আদায় করে নিতে পারি।

    রানা প্লাজা ধ্বসে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানো আর সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়।

    স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকল অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে অহিংস এবং সৃজনশীল কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে আমরা গণজাগরণ মঞ্চকেই দেখতে চাই।

    প্রথম বর্ষপূর্তিতে গণজাগরণ মঞ্চ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন।

    আরও

    Friday, December 20, 2013

    গণজাগরণ বনাম হেফাজত নয়, গণজাগরণ এবং হেফাজত

    মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে জামায়াতে ইসলামী তাদের রক্ষা করতে সহিংসতা - অরাজকতা - চোরাগোপ্তা হামলা শুরু করে। কাদের মোল্লার রায়ে ফাঁসি না হয়ে যাবজ্জীবন হওয়ায় তরুণ সমাজ এবং দেশের জনগণ ধারণা করে, জামায়াতে ইসলামীর সহিংসতায় ভীত সরকার এই রায় দিয়েছে। রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ জানাতে ফেব্রুয়ারি মাসে তরুণ সমাজের ডাকে শাহবাগে জমায়েত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনগণ - সৃষ্টি হয় গণজাগরণ মঞ্চ।

    আওয়ামী লীগ গণজাগরণ মঞ্চ থেকে মানবতাবিরধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাহস সঞ্চয় করেই থেমে থাকেনি, কিছুদিনের জন্য যতটা সম্ভব মূল মঞ্চের দখলও নেয়। এসময় তারা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে "রাজাকার" বলার মত নিন্দনীয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ করে। ঘটনা পরম্পরা বিবেচনা করলে আমরা দেখি, মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তারই কিছুদিন আগে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ মহিউদ্দিন খান আলমগীরের '৭১ এ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

    জামায়াতে ইসলামী এসময় তাদের নেতাদের রক্ষা করতে সহিংসতার পাশাপাশি গুজব রটনার আশ্রয়ও নেয়। হঠাত চাঁদে দেখা যায় জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদিকে! মক্কা শরিফের গেলাপেও নানা অবিশ্বাস্য ব্যাপার দেখা দেয়! (একজন মুসলিম কিভাবে নিজের ধর্ম নিয়ে এধরনের রটনা রটাতে পারেন - তা কেবল তিনিই জানেন।) গ্রামে মসজিদের ইমামকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মসজিদের মাইকে এমন গুজব রটিয়ে জনগণকে নিয়ে হামলা চালায়। সনাতনী ধর্মাবলম্বীরাও তাদের হামলার শিকার হন।

    গণজাগরণ মঞ্চ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি বন্ধ করতে জামায়াত গুজব রটায় - গণজাগরণ মঞ্চের সব ব্লগার নাস্তিক। তারা ইসলামী চেতনা ধ্বংস করছে।

    আমরা জানি, দেশের কিছু তরুণ ইসলাম ধর্ম নিয়ে ব্লগে আপত্তিকর কথা লিখেছিল। তাদের এই কাজ নিন্দনীয়। পৃথিবীর কোন ব্যক্তি নিজেকে সবজান্তা ভাবার ধৃষ্টতা দেখাতে পারেন না। সীমিত জ্ঞান দিয়ে ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর লেখা প্রকাশ করে কারো ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেওয়া, সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি করা সঠিক নয়।
    তবে তাই বলে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে শাহবাগের সমস্ত ব্লগারকে নাস্তিক আখ্যা দেওয়াটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    ব্লগার শব্দটিই হয়ে ওঠে নাস্তিক্যবাদের প্রতিশব্দ।

    গণজাগরণ মঞ্চের কিছু তরুণের দুই একটি শ্লোগান আমাদের কাছে বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে (যেমন "একটা একটা শিবির ধর ........... !") কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতেই হবে - এ নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করার কোন অবকাশ নেই। আমরা প্রত্যাশা করবো, যেসব তরুণদের ভুল বুঝিয়ে ভুল পথ দেখানো হচ্ছে, স্বাধীনতার সময়ে যাদের জন্মই হয়নি, আমাদের নতুন প্রজন্মের স্বপ্নযোদ্ধারা তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনবে।

    পাশাপাশি আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে "জয় বাংলা"র সাথে "জয় বাংলাদেশ" শুনতে চাই। আমাদের এখন স্বাধীন একটা দেশ আছে - বাংলাদেশ। শ্লোগানটি যে সময়কার - তখন ছিল না। "জয় বাংলা" শ্লোগানটি বেশ পুরনো - ৭১ এর আগের - যখন "বাংলা" ঠিক "দেশ" হয়ে ওঠেনি। "জয় বাংলা" শ্লোগানটির গুরুত্ব এখানেই যে এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আবেগকে ধারণ করে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৭১ এ ফিরিয়ে নিয়ে যায় (স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, "জয় বাংলা, বাংলার জয়")। ৭১ এর আগে পূর্ব পাকিস্তান না বলে "বাংলা" বলতেই আমরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম।

    আমাদের দেশের সাধারণত সবচেয়ে অসহায়, এতিম সন্তানরা মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। (বেতিক্রম অবশ্যই আছে - অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তানকেও ইসলামী শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদ্রাসায় পাঠান হয়।) এই অসহায় এতিম ছাত্ররা অবহেলিত। এদের হয়ে কথা বলার মত কেউ নেই। কাজেই জামায়াতে ইসলামী যখন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর দুরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্যে শাহবাগের আন্দোলন বন্ধ করতে তাদের কাজে লাগাতে চায়, অসহায় অবহেলিত মাদ্রাসা ছাত্ররা তখন রাস্তায় নেমে পড়ে। গড়ে ওঠে আরেকটি আন্দোলন।

    ইন্টারনেট এর মাধ্যমে সারা পৃথিবীর সমস্ত তথ্য, সমস্ত জ্ঞান আমাদের হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেটের আরেকটি ভাল ব্যাপার হল - যে কেউ এই মাধ্যমে নিজের লেখা প্রকাশ করতে পারে এবং সারা পৃথিবীর মানুষ সেই লেখা পড়তে পারে। যারা নিজের লেখা ইন্টারনেটে প্রকাশ করেন তাদের বলা হয় ব্লগার। ব্লগার শব্দটির সাথে নাস্তিক্যবাদের কোন সম্পর্ক নেই।

    মানবতাবিরধী অপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে শাহবাগের আন্দোলন বন্ধ করার দরকার ছিল। জামায়াত শিবির শাহবাগের আন্দোলন বন্ধ করতে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে পত্রিকায় বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে এবং শাহবাগের সমস্ত আন্দোলনকারী সম্পর্কে বানোয়াট কথা প্রচার করে মাদ্রাসা ছাত্রদের আন্দোলনে নামিয়েছে। পাশাপাশি, ব্লগার শব্দটির সাথে নাস্তিক্যবাদকে জুড়িয়ে দিয়েছে। 

    হাদিসে আছে - “বিদ্বানের কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও বেশি পবিত্র”।

    আমরা প্রত্যাশা করব - আমাদের দেশের মাদ্রাসার বিদ্বান ছাত্ররা ইসলামের কথা, নিজেদের গ্রামের বিভিন্ন সমস্যার কথা, তথা জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা এযুগের মাধ্যম ইন্টারনেটে প্রকাশ করবেন এবং ব্লগার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। তাদের এই লেখা থাকবে সারা পৃথিবীর জন্য উন্মুক্ত। কারো কারো লেখা হয়ত দেশ বিদেশের লক্ষ মানুষ পড়বেন।

    আমাদের একের সাথে অন্যের যে মত পার্থক্য রয়েছে, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে তার সমাধান হবে ব্লগে আলোচনা, যুক্তি-পাল্টা যুক্তির মাধ্যমে। ব্লগ হয়ে উঠতে পারে জ্ঞান চর্চার একটা মাধ্যম।

    আর এভাবেই আমরা ভুল বুঝে নিজেরা নিজেদের মাঝে যে দূরত্ব তৈরি করেছিলাম, তার অবসান ঘটবে।
    সবাই মিলে সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে ভরপুর একটা পৃথিবী গড়ব।


    আরও