Monday, March 31, 2014

জনতার ঐক্যের শক্তির মাধ্যমে অন্যায় এবং অন্যায়কারীকে রুখে দাঁড়ানো - ১

মন্ত্রী সাংসদদের নিজ সংকীর্ণ স্বার্থে সাংবাদিক, প্রকৌশলী এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের গায়ে হাত তোলার অভ্যাস রুখে দেওয়া 

আমাদের দেশের মন্ত্রী সাংসদরা আরও নানা অপকর্মের সাথে আরেকটি অসভ্য অপরাধ করেন - নিজ সংকীর্ণ স্বার্থে সাংবাদিক, প্রকৌশলী এবং অন্যান্য সম্মানিত মানুষদের নিজ হাতে পেটান, গায়ে হাত তুলেন। কিছুদিন আগে এই সভ্যতা বিবর্জিত অপরাধটি করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ জনতার বিপুল শক্তি টের পাচ্ছে।

বাংলাদেশের মানুষ জানছে, অন্যায়কারীরা সংখ্যায় নগণ্য। জনগণের ঐক্যের সামনে দাঁড়ানোর মত ক্ষমতা তাদের নেই।

জনগণের মাঝে ঐক্য নেই বলেই অন্যায়কারীরা জনতার মাঝে বিভেদ গড়ে তুলে অন্যায় সুবিধা নিতে পেরেছে। সবাই এক থাকলে কারও উপর অন্যায় হতে পারে না।

বাংলাদেশের মানুষ আর চুপ করে থাকবে না।
 


বাংলাদেশের মানুষ ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর অপরাধের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে, বিচার দাবি করেছে। আমরাও এই শিষ্টাচার বহির্ভূত অপরাধের তদন্ত এবং বিচার দাবি করছি। 

বাংলাদেশের মাটিতে আর কখনও কোন মন্ত্রী বা সাংসদের হাতে কোন ব্যক্তিকে আমরা প্রহৃত হতে দেবো না।

"টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিদ্যুতের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (পিডিবি) এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

শুক্রবার রাত সাড়ে আটটায় মন্ত্রী তার নিজের বাসায় উপসহকারী প্রকৌশলী পুনয় চন্দ্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

এ বিষয়ে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ কালিহাতীর নির্বাহী প্রকৌশলী নুরে আলম এবং বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (২) টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী হায়দার আলী ফকির বাংলানিউজকে জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তাদের দুইজনসহ পুনয় চন্দ্রকে বাসায় ডেকে নেন।

তার বাসায় গিয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী পুনয় চন্দ্র মন্ত্রীর সামনে পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকায় মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী তাকে গালমন্দ করেন।

এরপর উত্তেজনার এক পর্যায়ে সামনে থাকা একটি লাঠি নিয়ে মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী পুনয় চন্দ্রের মাথায় আঘাত করেন। এতে পুনয় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে তাকে উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।"

- পিডিবির প্রকৌশলীকে পেটালেন মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী



"ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, যিনি ৭২ ঘণ্টা আগে একজন বিদ্যুৎ প্রকৌশলীকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়েছেন, তিনি বলেছেন, ‘পাগল-ছাগলদের মাথা মুড়িয়ে দেওয়া দরকার। ওদের সাহস বেড়ে গেছে। মাথাটা নামিয়ে দিতে হবে।’"

- রাজনীতিতে সহনশীলতার ঘাটতি



"ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর হাতে পিডিবির একজন উপসহকারী প্রকৌশলীর শারীরিকভাবে প্রহৃত হওয়ার ঘটনার বিচার দাবি করে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির (ডিপ্রকৌস) টাঙ্গাইল শাখার কর্মকর্তারা। গতকাল শনিবার ডিপ্রকৌস এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রকৌশলী পূর্ণ চন্দ্র পালকে মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন নেতারা। পরে সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অনুমোদন নিয়ে টাঙ্গাইল শাখা ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সাত দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।



বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি টাঙ্গাইল শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কালিহাতী অঞ্চলের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী পূর্ণ চন্দ্র পাল মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর নির্দেশে শুক্রবার তাঁর বাসভবনে যান। ১১ কেভি ইছাপুর ও কামার্থি ফিডারের বিদু্যতের লোডশেডিং এবং ৩৩/১১ কেভি, ১০ এভিএ পাওয়ার ট্রান্সফরমার বরাদ্দ ও কমিশনিং কাজের অগ্রগতি বর্ণনাকালে হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে মন্ত্রী লাঠি দিয়ে প্রকৌশলী পূর্ণ চন্দ্র পালের মাথায় ও পেটে আঘাত করেন।

এ ঘটনার বিচার দাবিতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি সাত দিনের আলটিমেটাম ঘোষণা করেছে। বৈল্লা রেস্ট হাউসে রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বিদ্যুৎ বিভাগের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী হায়দার আলী ফকির, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কালিহাতী দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নূর আলম বক্তব্য দেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ওই ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, কালোব্যাজ ধারণ, বিক্ষোভ-সমাবেশ এবং বিদু্যত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

পূর্ণ চন্দ্র পাল ঘটনার বর্ণনা দিয়ে গতকাল ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি টাঙ্গাইল জেলা শাখাকে লিখিত দরখাস্ত দেন। এতে তিনি জানান, তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাঁর বাসায় যান। সেখানে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, কালিহাতী থানার ওসি, মেয়র উপস্থিত ছিলেন। তখন বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন বিষয় বর্ণনা প্রদানকালে মন্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে তাঁর মাথা ও পেটে আঘাত করেন। তাঁর সঙ্গে থাকা দুজন লাইনম্যান তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় কালিহাতী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান।"

- মন্ত্রীর হাতে প্রকৌশলী প্রহৃত : সাত দিনের মধ্যে বিচার দাবি