Wednesday, January 15, 2014

নাগরিক শক্তির ইলেকশান ক্যাম্পেইন স্ট্রাটেজি

নাগরিক শক্তি নির্বাচনী ক্যাম্পেইন পরিকল্পনায় গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীলতা দেখাবে।

নাগরিক শক্তির ইলেকশান মটো - “আমরা করবো জয়”।
স্পিরিটেড নেইশান (Spirited Nation) গড়ে তোলা হবে।
স্বপ্নের বাংলাদেশ। সবাই একসাথে কাজ করতে পছন্দ করে - জনগণের ঐক্য। আর আওয়ামী বাংলাদেশ - জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশের নামে দেশ বিভক্তি নয়, এবার নাগরিক শক্তির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।


প্রতি নির্বাচনী এলাকায় কোন সামাজিক উদ্যোগ যাতে এলাকার জনগণ লাভবান হয়।

প্রতি নির্বাচনী এলাকায় জনগণের মাঝে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। [1] যেসব ভোট প্রতিদ্বন্দ্বীরা পেতে পারে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে সেসব জয় করা - জনগণের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছানো।

জনগণের সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করা। দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়কে অবহিত করা। জনসভার একটা অংশ থাকবে জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য।

সার্ভেই। পোলিং। সেলফোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

যেসব নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সেসব এলাকায় ফোকাস করা।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং তার শক্তি - দুর্বলতা অ্যানালাইসিস করা।

নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে কালো টাকার প্রভাব থাকবে না। কালো টাকা ব্যবহার করলে প্রার্থিতা বাতিল হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে মাস্তান বাহিনীকে প্রতিরোধ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। এভাবে পেশি শক্তির প্রভাবও চলে যাবে। প্রতিটি জনগণ স্বাধীনভাবে ভোটের অধিকার ফিরে পাবে।

সবরকম মিডিয়া ব্যবহার করে জনগণের কাছে পৌঁছানো।

পুরো দেশকে কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় ভাগ করে প্রতি এলাকার জন্য "নির্বাচন পরিচালনা কমিটি" গঠন।


জরিপ করে জনগণের মন, জনগণের আশাআকাঙ্ক্ষা বোঝার উদ্যোগ নেওয়া হবে – কারা “ক” দলকে ভোট দেবেন? কি কি কারণে? কারা “খ” দলকে ভোট দেবেন? কি কি কারণে? (এসব ভোট কিভাবে নিজেদের পক্ষে আনা যায়?) অতীতে কোনবার কোন দল বা প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন? কেন? ভিন্ন দলকে ভোট দিলে সমর্থন পালটানোর কারণ কি? এলাকার উন্নয়নে কি কি দেখতে চান? কি কি সমস্যার সমাধান চান? (প্রার্থী হিসেবে কাল টাকার মালিক থাকলে তিনি কিভাবে নির্বাচনকে প্রভাবান্বিত করতে পারেন? কতটা?)

এরপর কেন্দ্রীয় ভাবে ডেটা - স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যানালাইসিস। ভোটারদের বিভিন্ন সেগমেন্টে ভাগ করে ফেলা - এই এই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ভোটাররা এই দল / প্রার্থীকে পছন্দ করছেন।

জনগণের গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে গ্রহণ করে প্রার্থীরা নিজেদের ভুলভ্রান্তি দূর করে কর্মকাণ্ড আরও উন্নততর করার কাজে ব্যবহার করবেন।

প্রতিটি নির্বাচনী সভায় জনগণকে তাদের আশা আকাঙ্ক্ষা প্রত্যাশার কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ভিডিও চিত্রের (বিভিন্ন এলাকার জন্য উপযোগী করে প্রয়োজনে স্থানীয় ভাষায়) মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে জনগণ উজ্জীবিত হবে।

আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ভিডিও কনফারেন্সিং, ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে।

সবাইকে নিয়ে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকার প্রতিষ্ঠিত বেক্তিরা এগিয়ে আসবেন, বাবসায়িরা সামাজিক এন্টারপ্রাইস প্রতিষ্ঠা করবেন। এলাকার জনগণ একতাবদ্ধ হয়ে নিজেরা নিজেদের সমস্যা সমাধান করবেন।

এভাবে রাজনীতিতে মেধার প্রয়োগ দেখিয়ে নাগরিক শক্তি দেশে নতুন রাজনীতির শুভ সূচনা করবে।


বড় দলগুলো অর্থ দিয়ে মনোনয়ন বিক্রি করে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অর্থ দিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের নিলাম হাট থেকে মনোনয়ন কেনেন। কালো টাকা, পেশি শক্তির প্রভাব হয়ে ওঠে যোগ্যতা নির্ধারণের মাপকাঠি।

নাগরিক শক্তি মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা, যোগ্যতা, মেধা, সততা, অভিজ্ঞতা, এলাকার উন্নয়ন কাকে দিয়ে হবে - এসব বিষয় বিবেচনায় নেবে। তৃনমূল থেকে প্রার্থীদের নাম প্রস্তাবের আহ্বান জানানো হবে এবং কেন্দ্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একাধিক প্রার্থী প্রায় সমান যোগ্যতা সম্পন্ন হলে সার্ভেই করে দেখা হবে জনগণ কাকে চান।

ফান্ড রেইজিং এর মাধ্যমে যে অর্থ রেইজড হবে তা শুধু মাত্র প্রার্থীদের ইলেকশান ক্যাম্পেইনে বায় করা হবে। প্রতিটি পয়সা খরচের হিসাবও রাখা হবে। স্বচ্ছতা কেন্দ্রিয়ভাবে মনিটারিং করা হবে এবং কারও বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল থেকে বহিষ্কারসহ কঠোর বাবস্থা নেওয়া হবে।


আরও


রেফরেন্স

নাগরিক শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা অনুষ্ঠান

জেনেরাল সেক্রেটারি, কো-জেনেরাল সেক্রেটারি, সিনিয়র জয়েন্ট জেনেরাল সেক্রেটারি এবং জয়েন্ট জেনেরাল সেক্রেটারির দায়িত্বে যারা আছেন সবাই একত্রিতভাবে নাগরিক শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব নেবেন। এই লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ে একসাথে বসা দরকার। জেনেরাল সেক্রেটারি সাহেব সেক্রেটারিয়েটের সবাইকে এক টেবলে আনার উদ্যোগ নেবেন।


আত্মপ্রকাশ ঘোষণা অনুষ্ঠানে
  • জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এবং
  • হরতাল - অবরোধ, জ্বালাও - পোড়াও, সংখ্যালঘু নির্যাতন, ব্যবসাবাণিজ্য এবং শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস সহ সবরকম ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী বন্ধ করে শান্তির পক্ষে 
রাজধানী ঢাকায় কর্মসূচী ঘোষণা। জনগণ অহিংসভাবে অধিকার আদায় করে বাড়িতে ফিরবে।

মটো - “আমরা করবো জয়”।

“আর নয় ধ্বংসের গান,

জনতার ঐকতান,

সৃষ্টির সুরে হবে গান একদিন।

আমরা মানি নাকো বাঁধা বন্ধন।

সাম্যের সত্যের জয় একদিন।

একদিন সূর্যের ভোর,

একদিন স্বপ্নের ভোর,

একদিন সত্যের ভোর আসবে।

পৃথিবীর মাটি হবে মধুময়,

বাতাস হবে মধুময়,

আকাশ হবে মধুময় একদিন।

বুকের গভীরে আছে প্রত্যয়,

আমরা করবো জয়।”


ঘোষণা অনুষ্ঠান এবং কর্মসূচীর পরিকল্পনা একসাথে চলবে।

দুটি দাবির পক্ষে সারাদেশে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করতে হবে।

জনগণকে আন্দোলনে আনার জন্য emotion arouse করতে হবে। আন্দোলনের থিমটার সাথে যারা একাত্মতা প্রকাশ করে তারাই আবেগ দিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে। গণজাগরণের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তরুণদের মাঝে “মুক্তিযুদ্ধের আবেগ এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যার উপর ঘৃণা”কে কেন্দ্র করে।হেফাজতের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল “নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে ইসলাম রক্ষার আবেগ”কে কাজে লাগিয়ে। দেশ এখন যে পর্যায়ে - গীতা সেনরাও আন্দোলনে নামবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, সুন্দর জীবনের স্বপ্ন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, “আমরা করবো জয়”, "বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও" সবার আবেগকে নাড়া দেবে।

শেয়ারবাজারে কতিপয় দুর্নীতিবাজের কারসাজির কাছে সর্বস্ব হারানো ৩০ লক্ষের অধিক বিনিয়োগকারির অধিকার রক্ষায় নাগরিক শক্তি আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং আইনের আশ্রয় নেবে।

সাগর রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতেও আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিচার না হলে আরেকজন সাগর কিংবা আরেকজন রুনিকে প্রাণ দিতে হবে।

গণতন্ত্র চর্চার অংশ হিসেবে আমাদের বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের ভুল ত্রুটিগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরে সরকারকে সঠিক পথে রাখতে হবে, জনগণের ন্যায্য দাবিদাওয়া আদায় করতে হবে।

Tuesday, January 14, 2014

Programming Languages I Am Learning / Working With

  1. C/C++
    • Systems (Linux, Android, Chrome) Programming 
    • Efficiency. Memory manipulation. Complete control over the environment. 
  2. Go 
    • Systems, Concurrent and Networked Programming 
    • Static Typing
    • Faster compilation 
  3. Java 
    • Managed Code
    • Android Application Development
    • Open Source Libraries and Frameworks
  4. Scala 
    • A blend of all the features you ever saw in different languages! 
    • Tries to answer “So, if we want to let programmers implement this feature as language library rather than language syntax, what features do we need to introduce in the language?” 
      • Features:
        • Actors Library 
        • Operators as Functions 
        • Flexible syntax (Prefix, Infix, Postfix mixing) 
      • Makes Scala DSL friendly and "scalable".
      • Makes the core language small (rest of the features are implemented in the library). Lisp Philosophy. 
    • What happens when you try to fuse OOP and Functional Programming on JVM? 
    • Static Typing and Terse syntax
    • Concurrent and Distributed Programming
  5. Clojure 
    • Lisp on JVM
    • Metaprogramming (Programmable Language) 
    • Functional Programming
    • Concurrent Programming
  6. Python 
    • Rapid Development
    • Open Source Libraries and Frameworks
  7. JavaScript 
    • Web Front-end (with HTML5 & CSS)
    • Object-based Programming 
    • Node.JS
  8. R 
    • Statistical, Numerical Computing 
  9. Haskell
    • Purely Functional Programming
  10. Erlang
    • Fault-tolerant Real-time Parallel Distributed Computing
    • Modifiable without downtime
Current Preference
If you need complete control over the environment, go down to C++. Otherwise, use Scala, Java, Clojure. 

Areas Of Mathematics I Am Learning

Probability & Statistics
  • Probability. 
    • Bayes. Bayesian Network. 
    • Hidden Markov Model 
  • Statistics
  • Stochastic models & processes
Algebra
  • Classical Algebra
    • Polynomials
    • Inequalities
    • Series & Sequences
    • Functional Equations
  • Linear Algebra. Matrix. 
    • Eigenvalue. Eigenvector.
    • Latent Semantic Indexing.
  • Abstract Algebra
    • Group Theory 
  • Algebraic Geometry
  • Representation Theory
  • Category Theory
  • Quaternions 
Analysis
  • Calculus
    • ODE 
    • PDE
  • Real Analysis
  • Complex Analysis
  • Vector Analysis 
  • Tensor Analysis
  • Fourier Analysis 
  • Laplace Transform
  • Harmonic Analysis
Geometry
  • Euclidean Geometry 
    • Co-ordinate Geometry 
    • Trigonometry
  • Topology
    • Manifold
  • Differential Geometry
  • Dynamical Systems 
Discrete Mathematics
  • Combinatorics
    • Combinatorial Geometry
  • Graph Theory
  • Automata & Language Theory. Boolean Algebra.
  • Number Theory 
    • Cryptography 
  • Mathematical logic
Applied Mathematics
  • Algorithm
  • Game Theory
  • Concrete Mathematics
  • Operations Research
    • Optimization
  • Numerical Analysis. Scientific Computing
  • Network Science
  • Mathematical Economics
  • Mathematical Physics
  • Mathematical Biology
  • Theoretical Computer Science 

And of course Mathematical Problem Solving and the study of heuristics.

Anyone want to join me?

Sunday, January 12, 2014

Fundamental Shift In Education - A Requirement Of Our Time

Fundamental shift in education is a requirement of our time.

Searchable facts are available online. When you have the Internet at your fingertips aided by Google you can learn anything ever known to mankind.

Computational devices / apps {e.g., WolframAlpha} are available. We don’t need to do multiplications or divisions or even algebraic calculations anymore. Computer based Numerical Computing and Symbolic Algebra Systems (Sage, Mathematica, Matlab) and Statistical Computing Systems (R) are available. All we need to learn is to turn real world problems into computer programs that can solve our problems.





Exponential growth of human knowledge means that much of what you know today would become obsolete ten years from now. So lifelong education is the norm.  


Breadth of knowledge will become increasingly important. You need to know what you need to know and once you know what you need to know, you can find it online.

Boundaries between different fields of study are opening up. We organized different fields of study (Physics, Chemistry, Biology etc.) more than hundred years ago. We organized everything related to life under Biology. The study of atoms and molecules and reactions was named Chemistry. Physics concerned itself with forces and matter of the universe and their interactions with the ultimate goal of reducing all forms of interaction into few fundamental laws (one law - "The Theory Of Everything" or so the Physicists say - if you are a bit ambitious!). But now in the light of new knowledge and better tools, new organization of fields of study is required. 


As we gained knowledge about the chemical processes of life, we organized our knowledge under the name Biochemistry. Fields that used to be completely separate are merging in the light of new knowledge and better tools to tackle common problems. For example, Biology and Computer Science, once separated, have combined to form Computational Biology / Bioinformatics as a result of explosion both in genomic and more generally biological data and computational power. New fields of study like Bioengineering, Biophysics, Cognitive Neuroscience, Computational Materials Science have popped up. As we look forward into the future, we can see Computer Science and Physics combining to form Physical Digital Integration and creating a world that is much different and better than ours. 

The Education of future Engineers would be based on Science and Mathematics: learning a few concepts that can explain all the different tools, technologies, possibilities and limits.

With the proliferation of global collaboration platform The World Wide Web, we need to direct research in the right direction – one that centers on solving real problems collaboratively, not just publication of random research papers (for getting promoted!).


In short, a complete reorganization of Education as it is today. Are we ready?


Followups

Thursday, January 9, 2014

আমাদের দেশের গনতন্ত্র - নির্বাচিত স্বৈরাচারী একনায়কত্ব

"রাশিয়ার জার ও ভারতের মোগল সম্রাটের চেয়েও বেশি ক্ষমতা ভোগ করেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।"
- ড. আকবর আলি খান [1]


"ব্যক্তিবিশেষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার শাসনকে বলে স্বৈরশাসন, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জনকল্যাণমূলক বা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয় না।

সরকার যদি ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয় এবং জনকল্যাণে পরিচালিত হচ্ছে না দেখা যায়, তবে তা নির্বাচিত হলেও গণতান্ত্রিক সরকার নয়, বরং তাকে নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র বলা যায়।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যদের সংসদীয় দলের প্রধানের মতামত মানা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে সরকারপ্রধান দলীয় প্রধান ও সংসদীয় দলের প্রধান। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব যেকোনো মতামত সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদে গ্রহণীয় করার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের ওপর চাপিয়ে দিতে সক্ষম।

সংসদের সর্বোচ্চ পদ স্পিকার। এ পদের জন্য সংসদ সদস্যদের ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নির্বাচন ও অপসারণের ব্যবস্থা আছে। ফলে দলীয় যেকোনো ব্যক্তিকে স্পিকার নির্বাচন এবং পছন্দ না হলে যখন-তখন অপসারণের ক্ষমতা সংসদীয় দলের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর আছে।

সংসদীয় পদ্ধতিতে সরকারের জবাবদিহির প্রধান জায়গা সংসদ। স্পিকার যিনি সংসদ পরিচালনার কর্তৃত্বপ্রাপ্ত ও সংসদে সরকারি দলের সাংসদেরা যাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সে কারণে ভোটের মাধ্যমে সংসদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অনুমোদন করতে সক্ষম, তাঁরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে। দেখা যায়, সংসদে সরকারি যেকোনো প্রস্তাব প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই গৃহীত হয়। এ কারণে সংসদকে সরকারি সব কাজের বৈধতাদানকারী রাবার স্ট্যাম্প সংসদ হিসেবে অনেকে আখ্যায়িত করে থাকেন।

বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনেরা, দেশের সচেতন সমাজের অনেকে ও ভুক্তভোগীদের কাউকে কাউকে আক্ষেপ করতে দেখা যায়, কাগজে-কলমে যা-ই থাক, বিচার বিভাগ তার কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা বাস্তবে লাভ করেনি। বাস্তবে সরকার বলতে সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রীকে এককভাবে বোঝায়। ফলে সুনির্দিষ্টভাবে বললে বিচার বিভাগ এখনো সরকারপ্রধানের প্রভাবমুক্ত নয়।

রাষ্ট্রপতির পদটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসন। দল-মতনির্বিশেষে সবার আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা। সে লক্ষ্যে পদটি দলনিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তি দ্বারা পূর্ণ করা বাঞ্ছনীয়। সংবিধানের বিধানগুলো কিছুটা সে লক্ষ্যে প্রণীত। কিন্তু বাস্তবে সংসদ সদস্যদের অগোপনীয় ব্যালটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংসদেরা দলীয় নেতা, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ও অনুগত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে বাধ্য থাকেন। এমনকি সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে (যেমনটা বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও ইতিপূর্বের বিএনপির ছিল) যখন-তখন প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা বাস্তবায়নে বা মন রক্ষা করে চলতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সম্ভব।

বর্তমান পদ্ধতিতে সরকারপ্রধান শুধু সরকারি প্রশাসনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক নন, একই সঙ্গে সরকারি দল ও সংসদের নিয়ন্ত্রক, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও বিচার বিভাগ তার প্রভাবের আওতায়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদটি বর্তমান পদ্ধতিতে রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী, যা বাধাহীনভাবে কোনো জবাবদিহি ছাড়া ব্যবহার করা যায়। এককথায় স্বৈরাচারী একনায়কত্ব। ফলাফল যা অনিবার্য, তা হলো ভুলত্রুটি, অনিয়ম, সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির বিকাশ।

আগেই বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশাসনের সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত। সে কারণে সরকারপ্রধান পরোক্ষ ক্ষমতাগুলোও সরাসরি ব্যবহারের প্রয়াস নিলে তা সম্ভবপর হয়। ফলে সাধারণ দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে যেকোনো সমস্যা সমাধানে সরকারপ্রধান জড়িত হয়ে পড়েন এবং তাঁর নির্দেশনা ছাড়া কোনো কাজের অগ্রগতি হয় না।

যেহেতু সরকারপ্রধান সব কাজে জড়িত হয়ে পড়েন, সব ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম, দুর্ঘটনা ও অঘটনের দায়-দায়িত্ব (যদি তিনি সরাসরি দায়ী না-ও হন) স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাঁর ওপরই বর্তায়। সেই দায়িত্বভার কাঁধে নিয়ে এ ধরনের সরকারপ্রধানদের ক্ষমতার বাইরে থাকা নিরাপদ হয় না। ফলে যেনতেন প্রকারে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার এবং পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দলীয়করণ, দুর্নীতি, দলীয় সন্ত্রাস লালন-পালন ক্ষমতায় যাওয়ার ও ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার প্রয়াসের অংশ বলে অনেকে মনে করেন।"

- এককেন্দ্রিক শাসনব্যস্থা আর নয়, গোলাম মোহাম্মদ কাদের, সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী।

রেফারেন্স
[1] জার, মোগল সম্রাট ও প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াডের সংস্কৃতি

বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াডের সংস্কৃতির সূচনার পর বেশকিছু ব্যাপার আমরা লক্ষ্য করছি।

আমরা লক্ষ্য করছি, অনেকগুলো ছেলেমেয়ে রাতদিন গণিত করে।

স্কুল কলেজে আমরা গণিত বলতে exercise করি - কিছু নির্দিষ্ট ধাপ বা কম্পিউটার বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যালগরিদম মেনে চলি মাত্র। কিন্তু গণিত অলিম্পিয়াডের সমস্যাগুলো সমাধানে ধাপগুলো বা অ্যালগরিদম নিজেকে দাঁড় করাতে হয়। অন্যকথায়, গণিত সৃষ্টি করতে হয়।

একটা উদাহরণ দেই। দুটা সংখ্যাকে গুণ করতে আমরা না বুঝেই কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলি - প্রথমে দুটি সংখ্যার সবচেয়ে ডানের অঙ্ক দুটিকে গুণ করি, তারপর হাতে রাখি ইত্যাদি। কিন্তু গণিত অলিম্পিয়াডে এই ধাপ বা নিয়মগুলো - কোন ধাপের পর কোন ধাপ হবে - তা নিজেকে চিন্তা করে বের করতে হয় - অর্থাৎ গণিত সৃষ্টি করতে হয়। আমরা বলি, স্কুল কলেজে তোমরা exercise কর, আর আমরা গণিত অলিম্পিয়াডে problem solve করি। কাজেই এখনও যারা Problem Solving কর না, আশা করি, তোমরাও দ্রুত আমাদের দলে যোগ দেবে!

একটা প্রজন্ম গড়ে উঠছে যাদের গড় IQ আগের প্রজন্ম গুলোর তুলনায় বেশি। অনেকগুলো ছেলেমেয়ে আগের চেয়ে ভালভাবে চিন্তা করতে পারে। আমাদের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দৈনিক এ নিজের ছবি দেখা; বিশ্ব প্রতিযোগিতায় নিজ দেশকে represent করা - অনেক বড় inspiration।

আমরা লক্ষ্য করেছি, গণিত অলিম্পিয়াডের অনুষ্ঠানগুলোতে অনেক ভাল ভাল কথা হয়। আলোকিত মানুষ হওয়ার, দেশকে ভালবাসার অনুপ্রেরণা পায় ছেলেমেয়েরা। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা দেশের গুণী মানুষদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়, প্রশ্ন করতে পারে, কথা বলতে পারে এবং অটোগ্রাফও নিতে পারে!

দুটা চমৎকার ব্যাপারের একটা হল “গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো” - অনেকগুলো ছেলেমেয়ে নিজের জীবন নিয়ে দেশ নিয়ে বড় বড় স্বপ্ন দেখছে। আরেকটা হল একেবারে ক্লাস থ্রি - ফোরের ছেলেমেয়েরা ড. জাফর ইকবালের ভাষায় “পেন্সিল কামড়ে” অঙ্ক করতে আসে!

আমরা লক্ষ্য করেছি, বাংলা মাধ্যমের বেশ কিছু ছেলেমেয়ে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেল এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে। মুন পড়ছে Harvard University তে [1], নাজিয়া MIT তে [2] (নাহলে "MIghTy" শব্দটা এভাবে লেখা আমাদের শেখা হত না!), ইশফাক Stanford University তে [3], তানভির Caltech এ [4] (আমাদের শ্রদ্ধেয় ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এই বিশ্ববিদ্যালয়ে Post-Doctoral Researcher হিসেবে কর্মরত ছিলেন) [5], সামিন Cambridge University তে [6]।
আগে গ্রাজুয়েট স্কুলগুলোতে আমরা এমএস বা পিএইচডি করতে যেতাম। ইংরেজি মাধ্যমের অবস্থাসম্পন্ন ছেলেমেয়েরা পড়তে পারত আন্ডারগ্রাজুয়েট লেভেলে। কিন্তু “বাংলা মাধ্যম” থেকে "স্কলারশিপ নিয়ে" “আন্ডার গ্রাজুয়েট” লেভেলে “বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে” পড়তে যাওয়াটা নতুন!

“বাংলা মাধ্যম” থেকে "স্কলারশিপ নিয়ে" “আন্ডার গ্রাজুয়েট” লেভেলে “বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে” পড়ার পথ দেখানোর কৃতিত্বের একক দাবিদার বাংলাদেশ গণিত দলের কোচ ড. মাহবুব মজুমদার  [7]; যিনি নিজে MIT থেকে Electrical Engineering এ আন্ডারগ্রাড, Stanford University থেকে Civil Engineering এ মাস্টার্স এবং Cambridge University থেকে Theoretical Physics এ PhD করে Imperial College এ [8] Post Doctoral করছিলেন। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সাথে সম্পৃক্ত হন এবং স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশে থেকে যান। বিদেশী ও ইঞ্জিনিয়ারিং আন্ডারগ্রাড ডিগ্রি থাকা এবং আরও কিছু কারণ দেখিয়ে তাকে Dhaka University র Physics Department এ যোগ দিতে দেওয়া হয়নি।

১৯০৫ এ আইনস্টাইনের "Miracle Year" [10] স্মরণে ২০০৫ সালের বাংলাদেশ জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডে আইনস্টাইন এবং পদার্থবিজ্ঞানের উপর একটা প্রশ্ন উত্তর পর্ব ছিল। সেখানে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলাম। তাই গণিত ক্যাম্পে ড. মাহবুব মজুমদার আগ্রহের সাথে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতেন। মেক্সিকোতে যাওয়ার আগে প্রেস কনফারেন্সে দেখি তিনি স্ট্রিং থিউরি (String Theory) র [11]  একটা জটিল পেপার নিয়ে হাজির!
  
আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করার মত। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে আমাদের সাফল্যের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। আমাদের কিশোর - তরুণ গণিতবিদরা ২০০৬ সালে প্রথমবারের মত অনারেবাল মেনশান, ২০০৯ সালে প্রথমবারের মত ব্রোঞ্জ মেডাল, ২০১২ সালে প্রথমবারের মত সিলভার মেডাল জয় করে এনেছে। আমরা আশা করছি, এই ধারা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ গণিত দল ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড থেকে গোল্ড মেডাল নিয়ে ফিরবে! গোল্ড মেডাল জয়ী সেই গণিতবিদ হতে পারো তুমিই!  

গণিত অলিম্পিয়াডের এই সংস্কৃতি সম্ভব হয়েছে কিছু তরুণ - তরুণীর স্বেচ্ছা কর্মোদ্যোগে। আমরা তাদের "মুভারস" (MOVERS - Math Olympiad Volunteers) বলে জানি। একটা শুভ উদ্যোগে দেশের তরুণ তরুণীদের উৎসাহী অংশগ্রহণ আমাদের প্রাণশক্তিতে ভরপুর তরুণ প্রজন্মকে সংজ্ঞায়িত করে।


নাগরিক শক্তি গণিত অলিম্পিয়াডের এই সংস্কৃতিকে দেশে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেবে।



Wednesday, January 8, 2014

বাঙালি সংস্কৃতি - মিশ্র সংস্কৃতির সৌন্দর্য

আমাদের পূর্ব পুরুষরা ছিলেন সনাতনী ধর্মাবলম্বি। এরপর মুসলমান শাসনামলে এ এলাকা মুসলিম প্রধান হয়ে ওঠে। ব্রিটিশদের মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতিতে ওয়েস্টার্ন কালচারেরও অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

সব ধরণের সংস্কৃতি মিলে হল - বাঙালি সংস্কৃতি।

একটা উদাহরণ দেবো?

আমাদের বিয়ের আগে এঙ্গেইজমেন্ট হয় - ওটা ওয়েস্টার্ন কালচার থেকে শেখা। গাঁয়ে হলুদের অনুষ্ঠানগুলো হয় সনাতনী সংস্কৃতি [1] অনুসারে। আকদ [2] ইসলামিক। বউ ভাতটাও সনাতনী সংস্কৃতির।

আরেকটা উদাহরণ?

আমরা পায়ে ধরে সালাম করি। “সালাম” করাটা ইসলামিক। আর “পায়ে ধরা”টা সনাতনী সংস্কৃতির। দুটা মিলে “পায়ে ধরে সালাম”!


বাঙালি সংস্কৃতির সৌন্দর্য হল এই বৈচিত্র্য।

কাজেই এই বৈচিত্র্য-সৌন্দর্য কে অস্বীকার করে কেউ যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালায় তখন তা আমাদের ঐতিহ্য সংস্কৃতির সাথে বড় বেমানান দেখায়।

রেফারেন্স
[1] Mehndi
[2] Akd Marriage Contract

Tuesday, January 7, 2014

Conflicting Interest In Regional Dominance Encouraging Militants And Extremists In Middle East: Is It Acceptable?

In the Middle East, regional dominance and Shiite-Sunni conflict is giving rise to and encouraging militants and extremists.

Saudi Arabia and it’s allies and Iran and it’s allies are in opposite groups, with Saudi Arabia being Sunni dominant and Iran being Shiite dominant.

Because of power conflict and interest in regional dominance, both sides are encouraging groups of opposing militants and extremists.

But does “Islam”, a word derived from “Salam”, which literally means “peace”, really encourage or even approve such conflicts?
Suicide and collateral damage are forbidden in Islam and the person who commits suicide is destined to go to hell.
Prophet Muhammad declared unity of humanity in his last sermon, "All mankind is from Adam and Eve, an Arab has no superiority over a non-Arab nor a non-Arab has any superiority over an Arab; also a white has no superiority over black nor a black has any superiority over white except by piety and good action." [1]


In the age of globalization, it’s the mutual economic relationship and mutual economic engagement, not military engagement, that brings prosperity.




Follow-ups

Reference

আর আওয়ামী বাংলাদেশ - জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশের নামে দেশ বিভক্তি নয়, এবার নাগরিক শক্তির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগ এবং তার জোট আর বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট দুটি জোট দেশকে দুইভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে।

অন্যায় সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে দুই জোট দুটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের লোক দেখানো আশ্বাস দিয়ে আওয়ামী জোট একটি পক্ষ তৈরি করেছে এবং তাদের প্রকৃত চিত্র আড়াল করেছে। অন্যদিকে ইসলামী চেতনার মন ভোলানো কথা বলে বিএনপি-জামায়াত আরেকটি পক্ষ তৈরি করেছে এবং ক্ষমতায় গিয়ে বাংলাদেশকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ হিসেবে অধিস্ঠ করে এদেশের পরিশ্রমী, আবেগপ্রবণ, দেশপ্রেমিক জনগণের মাথা নিচু করেছে।


হওয়া উচিত ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমাদের দেশে তার উল্টো - দেশের চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়।


একজন ছাত্রলীগ নেতা চাঁদাবাজি করলে আওয়ামী লীগ দেখেও না দেখার ভাব নেয়। আওয়ামী নেতা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলে আওয়ামী লীগ তাকে সাংসদ পদপ্রার্থী করে পুরস্কৃত করে। অন্যদিকে, জামায়াত সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালালে, কারখানা জ্বালিয়ে - পুড়িয়ে দিলে, "রগ কাটলে " বিএনপি জোট নিশ্চুপ থেকে তাদের প্রশ্রয় দেয়। নির্বাচনী সহিংসতায় দেশে শতের উপর সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা দেয়লিয়া হওয়ার পথে - অথচ বিএনপি জোটের এ ব্যাপারে কোন বিকার নেই। আওয়ামী লীগের যদি থাকতো, জনগণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশে একতরফা নির্বাচন করত না।

সমগ্র দেশের ঐক্য থাকলে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমরা আমাদের দাবি দাওয়া আদায় করে নিতে পারি। আমরা দেখেছি, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিএনপির অবস্থানকে আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করে, আওয়ামী লীগের অবস্থানকে বিএনপি বিরোধিতা করে। প্রবাসীদের নানা দলীয় সংগঠনে দ্বিধাবিভক্তি প্রবাসে আমাদের অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এভাবে আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দুর্বল অবস্থানের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।


অন্যায়কারীরা সংখ্যায় নগণ্য। জনগণের মাঝে ঐক্য নেই বলেই দেশকে দুই ভাগে বিভক্ত করে আজ অন্যায়কারীরা সুযোগ নিতে পারছে। জনগণের মাঝে একতা থাকলে অন্যায়কারীরা কখনই সুযোগ নিতে পারবে না।


ক্রিকেট খেলায় একটা ম্যাচ জিতলে সারাদেশ একসাথে উল্লাস করে। হৃদয়ে একটা গভীর আনন্দের অনুভূতি - সারা দেশ মিলে শুধু একটা উপলক্ষে করার সুযোগ পায়। দুই জোট আমাদের ঐক্যবদ্ধ আনন্দ উল্লাসের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।


আমরা আর আওয়ামী বাংলাদেশ - জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশের নামে দেশ বিভক্তি চাই না, এবার আমরা চাই নাগরিক শক্তির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।


নাগরিক শক্তি জানে এক একটা মানুষের মাঝে কি বিপুল শক্তি লুকিয়ে আছে। প্রকৃতপক্ষে এই শক্তিই নাগরিক শক্তি। নাগরিক শক্তি দেশের ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করবে এবং ১৬ কোটি মানুষের মাঝের শক্তিকে জাগ্রত করে তাকে সম্মিলিত লক্ষ্যে পরিচালনা করবে। সেই শক্তির সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা কারোরই নেই। 


নাগরিক শক্তি দেশের রোল মডেলদের সামনে নিয়ে এসে জনগণের জন্য উন্নত আদর্শ - উদাহরণ তৈরি করে দেবে। ১৬ কোটি মানুষকে আলোকিত মানুষ হওয়ার আহ্বান জানাবে।

নাগরিক শক্তির প্রচার দুই - চারজন নেতার বক্তৃতা - বিবৃতির মাধ্যমে হবে না, বরং জনগণের ভালবাসার মাধ্যমে হবে। যারা আমাদের মতাদর্শের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করবেন, আমাদের সাথে একসাথে স্বপ্ন দেখবেন এবং বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবেন তারাই বাকিদের মাঝে নাগরিক শক্তিকে ছড়িয়ে দেবেন।

দুই জোটের প্রতিটির হয়ত ৩০০ নেতা বা ৬০০ বা ৩০০০।
কারণ এই ৩০০ বা ৬০০ জনই এসব জোটে থেকে সুবিধা পান বলে আনুগত্য প্রকাশ করেন।

কিন্তু নাগরিক শক্তির এখনই লক্ষ লক্ষ নেতা। কিছুদিনের মাঝে আমরা কোটি কোটি নেতা গড়ে তুলবো। কারণ, জনগণই আমাদের নেতা। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজ নিজ স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেবেন। আমরা তার জন্য প্রয়োজনীয় প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেবো। যারা সামনে থাকবেন তারা ভালবাসায় সিক্ত সম্মানিত প্রতিনিধি মাত্র।

চলুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।

Monday, January 6, 2014

নাগরিক শক্তির অর্থনৈতিক দর্শন (Economic Philosophy)

নাগরিক শক্তির অর্থনৈতিক দর্শনের মূলে রয়েছে দুটি বিষয়
  • প্রত্যেকটি মানুষের মাঝে বিপুল শক্তি লুকিয়ে আছে। এই শক্তি জাগ্রত হয় এমন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
  • Win-win, Non-zero sum games. এমন ব্যবস্থা যেখানে সব পক্ষই জিতবে। 

নাগরিক শক্তি প্রত্যেকটি মানুষের মাঝে যে বিপুল শক্তি লুকিয়ে আছে তাকে জাগ্রত করতে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা-শিল্প-বিনিয়োগ-উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলবে। সামাজিক ব্যবসার বিকাশের মাধ্যমে সমাজের সমস্যাগুলো দূর করে গণ মানুষের উপরে ওঠার ক্ষেত্র তৈরি করবে। জনসাধারণের বিকাশের জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলবে।

এক একটা মানুষ যেখানে বিশাল শক্তি হতে পারে সেখানে ১৬ কোটি মানুষকে জাগিয়ে তুলতে পারলে আমাদের আর পিছে ফিরে তাকাতে হবে না। কাজেই দেশের ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা নাগরিক শক্তির লক্ষ্য। আমরা ১টি মানুষের শক্তিকেও বৃথা যেতে দিতে চাই না (শুধু শীর্ষ অপরাধীদের বাদ দিয়ে)।

একদিকে শিল্পের বিকাশ এবং অন্যদিকে জনকল্যাণমুখী অর্থনীতি চালু করে নাগরিক শক্তি বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলবে।

সমাজতান্ত্রিকরা মনে করেন, পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটলে পুঁজিবাদীরা শ্রমিক শ্রেণী থেকে লুট করে ধনী হন। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এমন পদ্ধতি চালু করা সম্ভব যেখানে সব পক্ষ সর্বোচ্চ লাভবান হবে, সব পক্ষই জিতবে। পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটলে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। শিল্পের মালিকরা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে ব্যবস্থা নিলে, কারখানার পরিবেশ উন্নত করলে অধিকতর উৎপাদনশীলতা থেকে মালিকরা লাভবান হন। শ্রমিকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটলে তারা শিল্প পণ্য আরও বেশি কেনেন। এভাবে শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হয়।

আমাদের দেশের সমস্যা হল, দুষ্ট রাজনীতির কারণে আইন শৃঙ্খলার উরধে উঠে দুর্নীতি সন্ত্রাসে নিমজ্জিত একদল লুটেরা শ্রেণীর উদ্ভব ঘটেছে। নাগরিক শক্তি জনগণকে নিয়ে এই অপরাধী শ্রেণীর হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করবে।

Could Manufacturing Be The Key To American Lead In Global Economy?

The American Economy has been the largest economy in the world for almost 100 years [1].

But now, the Chinese Economy [2] is very close to the American Economy in terms of size. If the current growth rate continues then the Chinese Economy should surpass American Economy in terms of size within a few years.

How does America keep its position as the largest economy in the world?

Manufacturing could prove vital. 


Manufacturers, miners, utilities and builders accounted for over 45% of China’s GDP in 2012. As the cost of doing manufacturing in China rises and with the advent of new technologies, American companies are thinking of returning manufacturing plants back to America. Some companies including Apple have already taken initiatives.

The return of manufacturing back to the hands of Designers and Engineers could spur innovation. 

References:

Sunday, January 5, 2014

Evolution Of Computing

  1. Mainframe Computing Era: Computers were huge and expensive. Found application only in research labs and large business companies for lengthy calculations.
  2. Personal Computing Era: Microprocessors came into widespread use. Apple Mac and Microsoft Windows came along. Each desktop had to have a computer (Desktop Computers)! Word processing, Spreadsheet Applications and Multimedia applications were the most popular ones. 
  3. Networked Computing Era: During the mid nineties, the Web exploded. Suddenly, everyone was “online”. Everyone was communicating and shopping and searching online. 
  4. Mobile and Cloud Computing Era: Then came iPhone and Android (around 2007). Suddenly, computing was transferred to Clouds accessed by Mobile devices (Smartphones, Tablets and not to forget, “Phablets”!).
  5. Ubiquitous Computing Era: This era is still in the making. This is the era of Physical Digital Integration - when computers are everywhere so that they are invisible, when things start to think and communicate with each other and of course communicate with us! Up until Physical Digital Integration, humans acted as the interface between the Information World and Physical World. But in the ubiquitous computing era, Physical World becomes alive utilizing information directly from the Information World. 

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় নাগরিক শক্তির ভূমিকা

দেশে এই মুহূর্তে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হল জনগণের জানমালের নিরাপত্তা।

জনগণের জীবনের নিরাপত্তা যদি না থাকে, তাহলে বাকি সবকিছু অর্থহীন হয়ে যায়।

সংখ্যালঘুদের (সংখ্যালঘু শব্দটা আমাদের পছন্দ না। আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশী। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি সাপেক্ষে না চাইলেও শব্দটা আমাদের ব্যবহার করতে হয়।) সবচেয়ে বড় আতঙ্ক বিএনপি - জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে জামায়াতের নেতৃত্বে সংখ্যালঘু নির্যাতন-নিধন শুরু হতে পারে। ২০০১ এ তার দৃষ্টান্ত আছে। এবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে জামায়াত যা করেছে, তা দেখে মনে হয়, এবার সেই ঘৃণ্য প্রক্রিয়া আরও গুরুতর হতে পারে। আওয়ামী লীগ যেভাবে বিরোধী দলীয় নেতাদের উপর দমন - নিপীড়ন চালিয়েছে, তাতে বিএনপি - জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে প্রতিশোধ- প্রতিহিংসা হতে পারে - এমন ভাবনা থেকে অনেকেই শঙ্কিত। মানবতাবিরধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে যারা সক্রিয় ছিলেন তারাও অনেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। (আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, সম্পূর্ণ গুজবের উপর ভিত্তি করে নিরাপরাধ মানুষকে খুন করতে জামায়াত একের পর এক প্রচেষ্টা চালাতে পারে।) আরেকটি ভয়ের ব্যাপার - জামায়াত নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারে।

কিন্তু আওয়ামী লীগ যেভাবে দমন নিপীড়ন চালাচ্ছে, তাতেও দেশের একটি বড় অংশ নিজেদের বঞ্চিত ভাবছেন এবং এই বঞ্চনাকে কাজে লাগিয়ে জামায়াত এক্সট্রিমিসম বা জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটাতে পারে। শাহবাগের আন্দোলন বন্ধ করতে জামায়াত কি করেছে - তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। ককটেল বোমা, জ্বালাও - পোড়াও এর মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেই আমাদের আশঙ্কা।

আমরা দেখেছি, আওয়ামী লীগ গীতা সেনদের, সংখ্যালঘুদের তথা জনগণের নিরাপত্তা দিতে শুধু ব্যর্থ হয়নি, বরং স্বীয় উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এবার তারা সর্বদলীয় সংখ্যালঘু হামলায় অংশ নিয়েছে।

যতদিন দেশে সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে না, ততদিন অবরোধ-হরতালে দেশ প্রায় অচল হয়ে থাকবে এবং দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের পথে যাবে।

দেশের জনগণের দাবি দাওয়ার দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে চৌর্যবৃত্তি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিজেদের ব্যস্ত রাখবে - এমন সরকার দেশের মানুষ আর চায় না।

নাগরিক শক্তি সংখ্যালঘুদের তথা দেশের সকল জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় সবার মাঝে একতার বন্ধন গড়ে তুলবে। সংখ্যালঘু এবং সংখ্যাগুরুদের মাঝে বন্ধন গড়ে তুলবে। সবাই মিলে বাংলাদেশ - এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে। একের উপর অন্যায় অন্যরা সহ্য করবে না।

অন্যায়কারীরা সংখ্যায় নগণ্য। জনগণের মাঝে ঐক্য নেই বলেই আজ অন্যায়কারীরা সুযোগ নিতে পারছে। জনগণের মাঝে একতা থাকলে অন্যায়কারীরা সুযোগ নিতে পারবে না। এ লক্ষ্যে এখন এই মুহূর্ত থেকে কাজ শুরু করতে হবে।

ক্ষমতায় গিয়ে জনসাধারণের নিরাপত্তাকে নাগরিক শক্তি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। এ লক্ষ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীতে আধুনিকায়ন, বিচার বিভাগে সংস্কার সহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। ইসলামী চেতনা যাতে ভুল পথে না যায় সে লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।


লেখা শেষ করে যা দেখলাম - চাঁপাতলায় শুধুই কান্না

আরও -
রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের বিচার চায় টিআইবি
মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলাম কারও একার নয়
মানবিক প্রেমবোধ ও সহমর্মিতা
সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দেশে বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে: মান্না
দেশ ছেড়ে আমি কোথাও যাব না
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শেষ কোথায়?

"আমি মাঝে মাঝে কল্পনা করি আমি যদি এই দেশে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী হতাম তাহলে আমার কেমন লাগতো। আমি জানি তাহলে গভীর হতাশায় আমার বুক ভেঙ্গে যেতো। আমি কোনো দোষ করিনি কিন্তু শুধুমাত্র একটি হিন্দু পরিবারে জন্ম নিয়েছি বলে আমার উপর যে নৃশংস অত্যাচার করা হচ্ছে তার জন্যে আমার বুকে যেটুকু ক্ষোভ জন্ম নিতো তার চাইতে শতগুণ বেশি অভিযোগ হতো আমার চারপাশের নির্লিপ্ত মানুষজনকে দেখে। কেউ কোনো কথা বলছে না। নীরবে এক ধরনের করুণা নিয়ে আমাকে দেখছে। সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ হতো রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর। প্রতিবার নির্বাচনের পর, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় হবার পর, রায় কার্যকর হবার পর আমাদের ওপর হামলা করা হবে। বি.এন.পি জামায়াত হামলা করবে, আওয়ামী লীগ বা বাম দলগুলো সেটা ঘটতে দেবে। খুব বেশী হলে নিরাপদ দুরত্বে থেকে প্রতিবাদ করবে কিন্তু বুক আগলে কেউ রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে না। এই দেশে আমি যদি হিন্দু ধর্মাবলম্বী হতাম তাহলে নিশ্চয়ই আমার বার বার মনে হতো আমি এই দেশের মানুষ কিন্তু এই দেশটি আমাকে রক্ষা করছে না। আমি নিশ্চয়ই সৃষ্টিকর্তার কাছে অভিযোগ করে বলতাম তুমি কেন আমাকে এমন একটি দেশে জন্ম দিয়েছ যেই দেশ আমাকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেয় না? যেই দেশে আমাকে প্রতি মুহূর্তে আতংকে থাকতে হয়? কিন্তু আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বী নই, তাই প্রকৃতপক্ষে তাদের বুকের ভেতর যে গভীর দুঃখ ক্ষোভ হতাশা আর অভিমান পুঞ্জীভূত হয়ে আছে আমি সেটা কোনোদিন অনুভব করতে পারব না।

আমার মনে হয় এই দেশ নিয়ে আমাদের যত কল্পনা, যত স্বপ্ন, যত পরিকল্পনা সবকিছুকে পিছনে সরিয়ে সবার আগে আমাদের এখন একটি লক্ষ্য টেনে নিয়ে আসতে হবে। সেই লক্ষ্যটি হচ্ছে এই দেশে একটি হিন্দু শিশু যেন নিশ্চিন্ত নিরাপত্তায় তার মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে পারে। গভীর রাতে ধর্মান্ধ মানুষের উন্মত্ত চিৎকারে তাদের যেন উঠতে না হয়, আগুনের লেলিহান শিখায় আপনজনের আতংকিত মুখ দেখতে না হয়। একজন হিন্দু কিশোরীকে যেন তার বাবার রক্তশূন্য মুখের দিকে তাকিয়ে থরথর করে কাপঁতে কাপঁতে বলতে না হয়, "এখন কী হবে বাবা?"

আমরা ...... শুধুমাত্র হিন্দু এবং অন্য সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা চাই যেন তারাও ঠিক আমাদের মত এই দেশটিকে তাদের নিজেদের ভালোবাসার দেশ বলে ভাবতে পারে। তীব্র অভিমানে তাদের বুক ভেঙ্গে যেন আর কোনদিন খান খান হয়ে না যায়।

আমি কার কাছে এটি চাইব জানি না, তরুণ প্রজন্মের কাছে চাইছি। তোমরা আমাদেরকে একটি নূতন বাংলাদেশ উপহার দাও। যে বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতা বিষবাষ্প চিরদিনের জন্যে মুছে দেওয়া হবে। আমি জানি তোমরা পারবে।"

 - তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রার্থনা: মুহম্মদ জাফর ইকবাল

এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হতাশা প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান
জামায়াতের ভাবাদর্শ
হিন্দু-মুসলমানের বিভেদ সৃষ্টিকারী দেশের শত্রু : সুলতানা কামাল
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা প্রকাশ
মুক্তিযুদ্ধের সাহস নিয়ে জামায়াতকে প্রতিহত করতে হবে: ইমরান
নিজভূমে পরবাসী হওয়াই নিয়তি?
অঘটন-উত্তর বোধোদয়, নাকি রাজনীতি?
বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও: আমাদের সুপারিশ
গণজাগরণ মঞ্চের পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে


সাম্প্রদায়িকতা বা সমাজের বিভেদকারী উপাদানগুলোর শিকড় যখন অন্যায়, অবিচার, অপরাধ, দুর্নীতি আর অসত্যের শিকড়ের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, তখন সে শিকড়কে খুঁজে বের করা এবং উপড়ে ফেলা এক দুঃসাধ্য কাজ হয়ে ওঠে। সুতরাং আমাদের সংস্কৃতি তথা রাজনীতি, সমাজনীতি, আর্থিক ব্যবস্থা, শাসনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে না ভাবলে সাম্প্রদায়িকতার মূলোৎপাটন করা যাবে না।
যত দুঃসাধ্যই হোক, কাজটা তো শুরু করতে হবে। নতুন প্রজন্মের জাগরণ এ ব্যাপারে আমাদের আশাবাদী করে তোলে। আমরা তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকি।